গাজীপুরে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ৩ জনের মৃত্যু
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) দিবাগত গভীর রাতে গরু চুরির সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হন তারা। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করলে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। এ সময় চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানেও আগুন ধরিয়ে দেয় এলাকাবাসী।
রোববার (১০ মে) সকালে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার মধ্যরাতে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা এলাকায় বাহাদুর মিয়া ও আবু বক্করের গরুর খামারে চোর চক্র হানা দেয়। একপর্যায়ে গোয়ালঘর থেকে গরু বের করার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া দিয়ে তিনজনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে গণধোলাই দেয়।
এদিকে চুরির কাজে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটিতেও আগুন দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয় বলে জানা গেছে। পরে ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে একজন পথেই মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
ফুলবাড়িয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মফিজুর রহমান বলেন, কয়েকদিন ধরে এলাকায় চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। শনিবার রাতে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে চোর চক্র এলাকায় প্রবেশ করলে তাদের গতিবিধি দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে সবাই মিলে তাদের আটক করে মারধর করে।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম মুফতি আতাউর রহমান বলেন, এলাকায় কয়েকদিন ধরে চোরের উৎপাত বেড়েছিল। এজন্য এলাকাবাসী আগে থেকেই সতর্ক ছিল। ভোররাতের দিকে চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়।
কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত গাড়িটিও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এনএনবাংলা/পিএইচ
