বেইজিং পৌঁছালেন ট্রাম্প, গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও ইরান ইস্যু

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত এক দশকের মধ্যে এটিই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শীর্ষ নেতার প্রথম চীন সফর।
বুধবার এয়ারফোর্স ওয়ানে করে তিনি চীনের রাজধানী বেইজিং-এ পৌঁছান। সন্ধ্যায় বেইজিংয়ে তাকে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সামনের সারিতে ছিলেন প্রযুক্তিখাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা।
বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নামার পর ট্রাম্পকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে। বিবিসি জানিয়েছে, ২০১৭ সালে সবশেষ সফরের সময় ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছিলেন স্টেট কাউন্সিলর ইয়াং জিয়েচিকে। বিপরীতে এবার স্বাগত জানানো হান ঝেং চীনের শীর্ষ নেতাদের একজন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির নেতা— ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন।
সফরের সূচিতে রয়েছে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা এবং ঝোংনানহাই সফর, যেখানে চীনের শীর্ষ নেতৃত্ব বসবাস ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেন।
প্রাথমিকভাবে গত মার্চে এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও, ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার কারণে তা পিছিয়ে যায়।
ইরান যুদ্ধ এবং এর সম্ভাব্য সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চীনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা এবারের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তার শি জিনপিংয়ের সহায়তা প্রয়োজন নেই।
এছাড়া বাণিজ্য, প্রযুক্তি খাত এবং তাইওয়ান ইস্যুও এই সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, তিনি চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার আহ্বান জানাবেন, বিশেষ করে বড় মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য। এ সফরে এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরাও তার সঙ্গে রয়েছেন।
অন্যদিকে, বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে গত অক্টোবরের ‘বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো, যা দুই দেশের মধ্যে শুল্ক উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমিয়ে এনেছিল।
এনএনবাংলা/
