পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাসের গড়ার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চলমান সিরিজেই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা, আর এখন সিলেট টেস্টে জয় পেলেই রচিত হবে নতুন ইতিহাস।
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ঢাকায় ১০৪ রানের বড় জয় পায় বাংলাদেশ। সেই ধারাবাহিকতায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টেও জয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দল।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য এখনও বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৩ উইকেট। অন্যদিকে, ম্যাচ বাঁচাতে পাকিস্তানকে করতে হবে আরও ১২১ রান।
৭৫ রানে অপরাজিত আছেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। তবে তার সঙ্গে রয়েছেন টেলএন্ডার সাজিদ খান, খুররম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাস—যাদের নিয়ে শেষ দিনে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা কঠিন চ্যালেঞ্জ।
শেষ দিনে পুরো ৯০ ওভার প্রতিরোধ গড়ে তোলা রিজওয়ানের জন্য প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। আবহাওয়া বাধা না দিলে বাংলাদেশ জয় পাবে—এমনটাই ধারণা ক্রিকেট বিশ্লেষকদের।

ছবি: সংগৃহীত
তবে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান দলকে কখনোই পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তারা অবিশ্বাস্য কিছু করেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
এর আগে সালমান আলী আগা ও রিজওয়ানের দুর্দান্ত জুটিতে ম্যাচে ফিরে আসার আশা জাগিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু দিনের শেষ বিকেলে স্পিনার তাইজুল ইসলামের জোড়া আঘাতে আবার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। দলীয় ২৯৬ রানে সালমানকে আউট করার পর পরের ওভারেই হাসান আলীকেও ফিরিয়ে দেন তিনি।
বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান সংগ্রহ করে। প্রথম ইনিংসের ৪৬ রানের লিডসহ মোট লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান, যা তাড়া করে জিততে হলে পাকিস্তানকে গড়তে হবে নতুন বিশ্বরেকর্ড।
টেস্ট ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ৪১৮ রান তাড়া করে জয় পায় তারা। ফলে পাকিস্তানের সামনে চ্যালেঞ্জটি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, শেষ দিনের লড়াইয়ে ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
এনএনবাংলা/
