জ্বালানি নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ৩৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে সহায়তা দিতে ৩৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।
সংস্থাটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অর্থায়ন ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অতিরিক্ত সহায়তার অংশ হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত অনেকাংশেই আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ ঝুঁকি বেড়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এই অতিরিক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সাশ্রয়ী উপায়ে এলএনজি আমদানির সুযোগ করে দিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোবাংলার এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা বাড়ানো হবে।
এর ফলে পেট্রোবাংলা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারবে এবং ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমাতে সক্ষম হবে। এতে দেশে আরও নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এই অর্থায়ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) সমর্থিত একটি পেমেন্ট গ্যারান্টি-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ও স্বল্পমেয়াদি ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে, যা এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে নিরাপত্তা দেবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান ডিভিশনাল ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এলএনজির দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে, যা আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এই সহায়তা স্থিতিশীল এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
এনএনবাংলা/
