Skip to content

ঈদের আগে মসলার দামে অস্বস্তি, বেড়েছে ঝাঁঝ

ছবি: নিউ নেশন

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর খুচরা ও পাইকারি বাজারে মাংসের মসলার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এলাচ, লবঙ্গ, জিরা, কিশমিশ ও গরম মসলার মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় মসলার দাম এখনো তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সোমবার (২৫ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে প্যাকেটজাত মসলার আধিপত্য বেশি। বড় মার্কেটের পাশাপাশি মহল্লার ছোট দোকানেও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মসলা বিক্রি হচ্ছে। খোলা মসলা সাধারণত প্যাকেটজাত পণ্যের তুলনায় প্রতি ১০০ গ্রামে ১০ থেকে ২০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

বর্তমানে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। খোলা শুকনা মরিচ প্রতি ১০০ গ্রাম ৫০ টাকা এবং প্যাকেটজাত মরিচের গুঁড়া কোম্পানি ভেদে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। পাইকারি বাজারে শুকনা মরিচের দাম প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা।

হলুদের গুঁড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ৭৫ টাকা এবং পাইকারিতে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা। জিরার গুঁড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ১৪০ টাকা, যদিও পাইকারিতে প্রতি কেজি ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ধনে গুঁড়ার দাম প্রতি ১০০ গ্রাম ৬০ টাকা এবং পাইকারিতে প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা। গরম মসলার গুঁড়া ও গোল মরিচের গুঁড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে গোল মরিচের দাম প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া প্যাকেটজাত বিরিয়ানি মসলার ১০০ গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়।

আস্ত মসলার বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। দারুচিনি প্রতি ১০০ গ্রাম ৮০ টাকা এবং পাইকারিতে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচের দাম। খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি ১০০ গ্রাম এলাচ ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারিতে এর দাম প্রতি কেজি ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার ৪০০ টাকা। লবঙ্গ প্রতি ১০০ গ্রাম ২০০ টাকা এবং পাইকারিতে প্রতি কেজি ১ হাজার ৪০০ টাকা। তেজপাতা প্রতি ১০০ গ্রাম ৩০ টাকা, জিরা ৮০ টাকা এবং ধনে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাটা বা পেস্টজাতীয় মসলার মধ্যেও কিছু পণ্যের দাম বাড়তি রয়েছে। খুচরা বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং পাইকারিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আমদানি করা বড় রসুনের দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। বাজার ও মানভেদে আদা প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২৬০ টাকা হলেও পাইকারিতে এর দাম ১৪০ টাকা।

বাদাম ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। চিনাবাদাম প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং কাঠবাদাম প্রতি ১০০ গ্রাম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সরিষার তেলের ২০০ গ্রামের বোতল ১০৫ টাকা, ২০০ গ্রাম ঘি ৩৫০ টাকা এবং আধা কেজি দই ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ৯৭৫ টাকা। রাইস ব্র্যান তেলের দুই লিটার ২৪০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার ১৬০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর মসলার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আলুবোখারা, জিরা, কিশমিশ, লবঙ্গ ও এলাচের দাম গত কয়েক মাসে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ছয় মাস আগেও আলুবোখারার দাম ছিল প্রতি কেজি ৭২০ টাকা, বর্তমানে তা বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এনএনবাংলা/