Skip to content

Upcoming
Ghana
0-0
Panama
Source: ESPN

রাজস্বখাত থেকে আসিফ ১৫ ও হাসনাত ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক

কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বক্তব্য রাখছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একই সঙ্গে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মোস্তাক মিয়া।

তিনি বলেন, “জেলা পরিষদের রাজস্বখাত থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। আর হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা। তারা বৈষম্যবিরোধী রাজনীতির কথা বললেও নিজেদের মধ্যে সেই চর্চা ছিল না।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজস্ব তহবিল ও এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বরাদ্দের পার্থক্য বুঝতে হবে। তার দাবি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন উপজেলার উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কুমিল্লার মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও জেলা পরিষদের মাধ্যমে সেই অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “এসব অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি অনুযায়ী ব্যয় হয়েছে। এ সংক্রান্ত সব নথি জেলা পরিষদের কাছে রয়েছে।”

অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দের অর্থ জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেবিদ্বারের জন্য ১০ কোটি নয়, ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং তা এডিপি প্রকল্পের আওতায় ব্যয় করা হয়েছে।

তার ভাষ্য, “জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্ক নেই। এমনভাবে বলা হয়েছে যেন আমরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়েছি, অথচ অর্থগুলো বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় হয়েছে।”

পরে রাতে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, “নিজস্ব রাজস্ব তহবিল হোক বা এডিপির বিশেষ বরাদ্দ—সবই সরকারি অর্থ। দুই উপজেলায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো তদন্ত করা হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বিএনপির সহ-সাংঠনিক সম্পাদক।

এনএনবাংলা/