




জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জুলাই আন্দোলন হয়েছিল, তার ধারে-কাছেও পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে দুই বছর পরও মানুষের মধ্যে জুলাই চেতনা অটুট রয়েছে এবং মানুষ এখনও তা মনেপ্রাণে ধারণ করে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আত্মোপলব্ধি ও আত্মপর্যালোচনায় অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দীপ্ত শপথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এ সভার আয়োজন করে।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একপক্ষ বলছে এটি অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে, অন্যপক্ষ বলছে বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারছে না, কবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য জুলাই সনদে যেসব প্রস্তাব রয়েছে, তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। বরং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে। জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কারের বড় অংশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি এবং যেসব অধ্যাদেশ পাস হওয়ার কথা ছিল, সেগুলোও হয়নি। জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি সেটি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সে বিষয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন।’
ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, সামগ্রিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মান্না বলেন, ‘সত্যকে ধারণ করতে হবে এবং সৎ পথে চলতে হবে। হতাশ না হয়ে আশার চাষ করাই রাজনীতির মূল শিক্ষা।’
সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারবেন না। কারণ, মানুষের রক্ত, হত্যা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তিনি দেশ ছেড়েছেন।’
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার গোপালগঞ্জে যাওয়ার বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ‘শেখ হাসিনা কখনো অনুতপ্ত হবেন না এবং দেশের মানুষও তাকে আর রাজনীতিতে গ্রহণ করবে না। তবে ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে আসতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয় উল্লেখ করে রিপন বলেন, ‘১৭ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী কাঠামো কয়েক মাসে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের চার মাস পর নির্বাচন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা ফ্যাসিবাদী শক্তিকেই উৎসাহিত করবে। গণতন্ত্র, দেশ এবং জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।’
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘জুলাই ন্যায়, সুশাসন ও একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।’
তিনি বলেন, ‘তরুণদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।’
তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে এর সমাধান খোঁজা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, ‘জুলাই শুধু শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন ছিল না; এটি আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তির আন্দোলনও ছিল।’
তিনি বলেন, ‘গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আদালতের মুখাপেক্ষী করার চেষ্টা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘নানা শক্তি জুলাইকে অপমান ও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে তাদের রাজনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকবে।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন জুলাই অভ্যুত্থানে সর্বকনিষ্ঠ শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব ও ডেইলি ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব মিনার এবং সাংবাদিক সালাউদ্দীন বাবলুসহ অন্যরা।
এনএনবাংলা/
Tags: July CharterJuly Uprisingজুলাই গণঅভ্যুত্থানজুলাই চেতনাজুলাই সনদমাহমুদুর রহমান মান্না
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন