Skip to content

দ্বিতীয় দিনের আন্দোলনে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা, সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েক শতাধিক গ্রাহক অংশ নেন।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে গ্রাহক আব্দুল হান্নান খন্দকার বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামী ব্যাংক সুনামের সঙ্গে গ্রাহকদের আমানত সংরক্ষণ করে আসছে এবং বাংলাদেশে সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করছে। তার অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের মাধ্যমে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হয় এবং বিপুল অর্থ বিদেশে পাচারের ফলে প্রতিষ্ঠানটি সংকটে পড়ে।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের নতুন বাস্তবতায় ইসলামপ্রিয় ও স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থায় বিশ্বাসী মানুষ পুনরায় ইসলামী ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখে বিনিয়োগ শুরু করেন। ব্যাংকটি যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল আবারও এটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।

নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত ব্যাংকটিকে আবারও সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে সাধারণ আমানতকারী ও গ্রাহকরা কোনোভাবেই ব্যাংকটিকে লুণ্ঠনকারীদের হাতে ছেড়ে দেবেন না। তিনি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে ব্যাংকের প্রতি আস্থা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং আমানতকারীদের তাদের অর্থ ইসলামী ব্যাংকেই রাখার অনুরোধ করেন।

আরেক গ্রাহক আবুল খায়ের আজাদ বলেন, সোমবারের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশের হস্তক্ষেপের ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। তিনি এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ কৌশলে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমান চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমকে ‘ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন কিছু শীর্ষ কর্মকর্তারও ভূমিকা ছিল।

জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে এমডির পদ থেকে অপসারিত ওমর ফারুক খানকে ‘গ্রাহকবান্ধব কর্মকর্তা’ উল্লেখ করে তাকে দ্রুত স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান তিনি।

আবুল খায়ের আজাদ বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং এর ওপর প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের আস্থা রয়েছে। ব্যাংকটির মূল্যবোধ ও স্বকীয়তা রক্ষায় দুর্নীতিবাজদের প্রভাবমুক্ত করা প্রয়োজন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সচেতন গ্রাহক ও কর্মীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

এর আগে সোমবার (১ জুন) একই স্থানে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল এবং সাবেক এমডি ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সে সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

এনএনবাংলা/পিএইচ