Skip to content

ধর্ষণের ঘটনা আলোচিত হলেই শুরু হয়ে যায় রাজনীতি: রুমিন ফারহানা

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতাকে ‘ক্লাসিক পলিটিসাইজেশন’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তার ভাষায়, ধর্ষণের প্রতিটি ঘটনাই সমান গুরুত্ব ও যন্ত্রণার হলেও কিছু ঘটনা অতিরিক্ত আলোচনায় আসে, আর অনেক ঘটনা আড়ালেই থেকে যায়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘আর না ধর্ষণ, শিশু নিপীড়ন, বিচারহীনতা: কোন পথে সমাধান?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। নারী ও শিশু নির্যাতনবিরোধী নাগরিক উদ্যোগ ‘আর না+’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

রুমিন ফারহানা বলেন, গত এক মাসে অন্তত ১১৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশ ভুক্তভোগী শিশু। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “প্রতিটি ঘটনার যন্ত্রণা, কষ্ট ও প্রভাব সমান। কিন্তু কোনো কোনো ঘটনা অতিরিক্ত আলোচিত হয় এবং সেটিকে কেন্দ্র করে রাজনীতি শুরু হয়। পল্লবীর ঘটনাটিকে এতটাই রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যে দুই দলের শীর্ষ নেতারা না গেলেও তাদের প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে গেছেন। অথচ একই সময়ে ঘটে যাওয়া অন্যান্য ধর্ষণের ঘটনায় এমন প্রতিযোগিতা দেখা যায়নি।”

রুমিন ফারহানার মতে, বর্তমানে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে যেখানে কোনো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে হলে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিতে হয়।

তিনি বলেন, “কোনো ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড় হতে হবে, ব্যাপক জনমত তৈরি হতে হবে, তারপর রাজনৈতিক ব্যক্তিদের টনক নড়বে। এরপরই সেটি বিচারের দিকে এগোয়। আমি এটাকে ‘চেরি-পিকিং’ বলি। ১০০ ঘটনার মধ্যে একটি অতিরিক্ত মনোযোগ পায়, বাকি ৯৯টি হারিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা রাজনৈতিক রঙে না দেখে সমান গুরুত্বে বিচার করতে না পারলে প্রকৃত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

যৌনশিক্ষা নিয়ে ট্যাবু ভাঙার আহ্বান

সুস্থ যৌনশিক্ষা নিয়ে সমাজে বিদ্যমান ট্যাবুর কথা তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, এ বিষয়ে গণমাধ্যম, পরিবার ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তার ভাষায়, “ধর্ষণের যে পরিসংখ্যান আমরা দেখি, তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অসংখ্য ঘটনা কখনোই প্রকাশ্যে আসে না। পরিবারকে শিশুদের ভালো স্পর্শ ও খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই বুঝতে হবে যে যৌন হয়রানি একটি ফৌজদারি অপরাধ এবং এর দায় অপরাধীর, ভুক্তভোগীর নয়।”

তিনি বলেন, এই সচেতনতা পরিবার থেকে শুরু হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।

বিচার বিভাগকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান

ধর্ষণের ঘটনায় আপস-মীমাংসার প্রবণতার সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, বিচার বিভাগ আরও ভুক্তভোগীবান্ধব ও নারীবান্ধব হলে বাংলাদেশ আরও নিরাপদ হতে পারে।

তিনি বলেন, “প্রতিটি ধর্ষণের সঙ্গে কোনো না কোনো ক্ষমতার সম্পর্ক জড়িত থাকে। ধর্ষক হয় অর্থনৈতিক, সামাজিক কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। অনেক ক্ষেত্রে সে নিজের লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণেও ক্ষমতাবান মনে করে। কারণ এই সমাজে নারীর বিরুদ্ধে সহজে আঙুল তোলা যায়, কিন্তু পুরুষের বিরুদ্ধে তা তুলনামূলক কঠিন।”

গোলটেবিল আলোচনা সঞ্চালনা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা মুশফিক উস সালেহীন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চিকিৎসক ও এনসিপির সাবেক নেত্রী তাসনিম জারা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেত্রী উমামা ফাতেমা, এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, আইনজীবী ও সাংবাদিক মানজুর আল মতিন, ব্লাস্টের কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার, গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রতিনিধি আরিফ সোহেল এবং জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ।

এনএনবাংলা/