



ফরিদপুরের মধুখালীতে ডিবি পুলিশের পিটানিতে অসুস্থ হয়ে এক যুবকের মৃত্যুর হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার বিকেল ৬টার দিকে ওই যুবককে আটক করে ডিবি। অভিযোগ এসময় তাকে তাঁর মায়ের সামনেই প্রহার করা হয়।
ডিবির হেফাজতে অস্থুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
তবে ডিবি পুলিশের দাবি ওই যুবককে নির্যাতন করা হয়নি। তার সাথে ভালো ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি আজ ভোরে তাকে নাস্তা করানোও হয়েছে।
মৃত ওই যুবকের নাম মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত (২৭)। তিনি ফরিদপুরের মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত. মির্জা এসকেনদার হায়দারের বড় ছেলে। দুই ভায়ের মধ্যে মির্জা ইশতিয়াক বড়। তিনি এখনো বিয়ে করেন নি। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মির্জা ইশতিয়াকের মামা মো. সাখাওয়াৎ হোসেন মিন্টু বলেন, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে তার ভাগিনা বাড়ির সামনে ছিল। এসময় একটি হায়েস মাইক্রোবাসে করে ডিবি পুলিশের ১২/১৩ জন সদস্য ইশিয়াক আহমেদ প্রান্তকে আটক করে প্রথমে মারপিট করে। ইশতিয়াকের মা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার সাথে দুর্ব্যাবহার করা হয়। পরে ডিবি পুলিশের সদস্যরা বাড়ির মধ্যে ঢুকে প্রতিটি কক্ষের যাবতীয় জিনিসপত্র তছনছ করে। এরপরে তার ভাগিনাকে গাড়িতে উঠিয়ে অজ্ঞাত জায়গায় নিয়ে যায়।
ইশতিয়াকের পরিবারের সদস্যদের সুত্রে জানা যায়, শনিবার সারারাত পরিবারের সদস্যরা মধুখালী থানা, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে ইশতিয়াকের কোন হদিস পাননি। পরে আজ শনিবার সকাল ৮টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল থেকে খবর পেয়ে ইশতিয়াকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারেন।
ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার বলেন, ইশতিয়াককে আটকের সময় তার দেহ তল্লাশি করে মাদক জাতীয় কোন দ্রব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ডিবি পুলিশ বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করে বিন্দুমাত্র মাদক সামগ্রি উদ্ধার করতে পারেনি। তবে শুনেছি পুলিশ তিন পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের দাবি করেছেন।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কান্না জড়িত কন্ঠে মা খাদিজা আক্তার বলেন, “কোন অপরাধে আমার সুস্থ নিরিহ ছেলেকে ধরে নিয়ে ডিবি হেফাজতে নির্যাতন করে হত্যা করা হইলো, আমি এ হত্যার বিচার চাই।
ডিবি পুলিশেরেএ অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখার এস আই মো. আহাদুজ্জামান ও এস আই মো. মোতাহার আলীর নেতৃত্বে এ অভিযানে অংশ নেন এএসআই মো. হাজিকুল ইসলাম, কনস্টবেল মনিরুজ্জামান, ফরহাদ হোসেন মিয়া, রাকিব মোল্লা সুফিয়ান, রকিবুল ইসলাম, নারী কনস্টবল চম্পা হালদার। গাড়ি চালক ছিলেন মো: সবুজ মোল্লা।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, মাদকসহ ইশতিয়াককে তার বাড়ির সামনে থেকে গতকাল সন্ধ্যায় আটক করা হয়। তাকে নিয়ে ডিবি পুলিশ রাত ৩টার দিকে ডিবি কার্যালয়ে আসেন। এখানে আসার পর তিনি ফজরের নামাজ আদায় করেন এবং প্রাতরাস গ্রহন করেন। ভোরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে মারা যান।
ইশতিয়াককে অটকের পর মারধোর করা হন দাবি করে ডিবির ওসি বলেন, তার সাথে ডিবি পুলিশ অত্যন্ত সুন্দর ও অমায়িক ব্যবহার করেছেন, তাকে নাস্তা খাইয়েছেন।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ বাদী হয়ে ইশতিয়াককে আসামি করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলাদায়ের করে। তিনি বলেন, ইশতিয়াকের নামে পূর্বের মামলা রয়েছে কিনা সেটি তথ্য তালাশ না করে এই মুহূর্তে তিনি বলতে পারছেন না।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম জানান, শেখ মোহাম্মদ ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্ত নামের একজন আসামীকে তার বাড়ি থেকে মাদকসহ জেলা গোয়েন্দা শাখা ধরে নিয়ে আসে। তাকে আমাদের কাস্টডিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে আমাদের কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থতা বোধ করলে তাকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে ট্রিটমেন্টে থাকা অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তো আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জাতীয় কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আমরা প্রাথমিকভাবে এটা এনসিওর (নিশ্চিত) করেছি যে তার শরীরে কোন ধরনের জখম ছিল না। আমাদের পুলিশের হেফাজতে কোন ধরনের এখানে তাকে আঘাত করা বা এরকম কিছু ঘটনা করা হয়নি।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, আমরা আমাদের ইন্টার্নাল (অভ্যন্তরীণ) একটি ইনকয়ারি (তদন্ত) করব।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন