




যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘প্রিয় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই আমি প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই লেবার পার্টির নেতা হিসেবে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
স্টারমার জানান, আগামী মাসে মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টির নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরুর আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে সোমবারই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। সম্প্রতি একটি আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হওয়া বার্নহামকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত মে মাসে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে চাপের মুখে ছিলেন স্টারমার। ওই নির্বাচনে জয় পায় অভিবাসনবিরোধী দল ইউকে রিফর্ম পার্টি। পাশাপাশি এপস্টেইন ফাইলে লেবার পার্টির সাবেক নেতা পিটার ম্যান্ডেলসনের নাম উঠে আসার ঘটনাও স্টারমারের ওপর চাপ বাড়ায়। অভিযোগ ছিল, ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানার পরও তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন স্টারমার।
যদিও কয়েকদিন আগেও স্টারমার দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিলেন, তিনি দলের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পদত্যাগ করবেন না। তবে গত শুক্রবার উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেইকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহামের জয় পাওয়ার পর থেকেই তার পদত্যাগ নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়।
সোমবারের বক্তব্যে স্টারমার বলেন, ‘নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করব। একই সঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তর যাতে সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিও নিশ্চিত করব।’
স্টারমারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এক দশকের মধ্যে সপ্তম নতুন প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
এনএনবাংলা/পিএইচ
Tags: কিয়ার স্টারমারপদত্যাগযুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন