সাম্প্রতিক
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভয়ে তুরস্ক ছাড়ার সময় বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প একাত্তর টিভির চেয়ারম্যান-সিওওসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সমন সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি থাকবে জুলাই জাদুঘর গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে সংসদ সচিবালয়ের চিঠি সৌরভ ও ডোনাকে হত্যার হুমকি, কলকাতা পুলিশের তদন্ত শুরু বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয় কৃষককে আটক গ্রামবাসীর বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেবে সরকার
Skip to content

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ভেনেজুয়েলায় গত বুধবার সন্ধ্যায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা শুক্রবার পর্যন্ত বেড়ে ৯২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল যোগ দিলেও ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান ধীরগতিতে চলছে। এ নিয়ে দুর্গত এলাকাগুলোতে ক্ষোভ বাড়ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার এএফপি’কে জানান, ভূমিকম্পের পর ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

রাজধানী কারাকাসের কাছে উপকূলীয় এলাকা লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্পে সেখানে একের পর এক ভবন ধসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে জানান, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টা থেকে দুর্গত এলাকায় প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।

চিলি থেকে আসা একটি উদ্ধারকারী দল লা গুয়াইরার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। চারটি বহুতল ভবন ও শত শত অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে গড়ে ওঠা কমপ্লেক্সটির বেশিরভাগই ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

উদ্ধারকারী দলের প্রধান নাদিওমার পোলাঙ্কো ঘটনাস্থল থেকে বলেন, ভবনগুলো পুরোপুরি ধসে পড়েছে। জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এখন মরদেহ উদ্ধারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই ধরনের ভয়াবহ চিত্র শহরের আরও অনেক এলাকায় দেখা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অনেক এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনরা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তারা পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও সরকারি সহায়তার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

৪০ বছর বয়সী মারজোসলি সালাজার বলেন, ‘আমি আমার ছোট্ট গেইলকে খুঁজছি। ওর বয়স ছিল মাত্র পাঁচ মাস।’

তিনি জানান, ভূমিকম্পে তার ১৬ বছর বয়সী মেয়ে মারা গেছে। আর তার শিশু সন্তান গেইল এবং এক চাচাতো ভাই এখনও নিখোঁজ।

কারাকাসের একটি অভিজাত এলাকায় অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গেলে ক্ষুব্ধ জনতার তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা স্বজনদের উদ্ধারে বিলম্ব হওয়ায় তারা সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘সরকার জনগণের জন্য কিছুই করছে না।’

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানান, অন্তত ১৭টি দেশের উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে। এর মধ্যে স্পেন, এল সালভাদর, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর দলও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র শুক্রবার জানিয়েছে, তারা ২৫০ জনের বেশি সদস্যের একটি দুর্যোগ মোকাবিলা দল ভেনেজুয়েলায় পাঠাচ্ছে। এ দলে তিনটি বিশেষ অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিট রয়েছে। তাদের সঙ্গে প্রশিক্ষিত কুকুরও রয়েছে, যা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য সহায়তা সংস্থা শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানায়, ভূমিকম্পের আগেই ভেনেজুয়েলার লাখো মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, ভেঙে পড়া স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছিল।

এনএনবাংলা/পিএইচ