




মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বিশাল বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে একটি খোলা কালো কফিনে শায়িত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। কফিনের গায়ে ফারসি ও ইংরেজি ভাষায় বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে, ‘We Will Kill Trump’ (আমরা ট্রাম্পকে হত্যা করব)।
বিলবোর্ডটির পাশেই রয়েছে আলী খামেনির একটি বিশাল মুষ্টিবদ্ধ হাতের ভাস্কর্য। এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরুতে বিমান হামলায় নিহত এই নেতাকে ঘিরে শোক ও প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে এলোমেলো চুল, বন্ধ চোখ ও মুখ নিয়ে একটি খোলা কফিনে শায়িত দেখা যায়। তাঁর দুই হাত লাল টাইয়ের ওপর রাখা এবং দুই পা সোজা উঁচু হয়ে রয়েছে, যা পুরো চিত্রটিকে আরও প্রতীকী করে তুলেছে। কফিনজুড়ে সাদা অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘We Will Kill Trump’। পাশাপাশি ফারসি ভাষায় শহীদ আলী খামেনিকে স্মরণ করে বিভিন্ন বার্তাও সংযুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, বিলবোর্ডে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শিশুদের স্মরণেও একটি বার্তা রয়েছে। যুদ্ধের শুরুতে ওই শহরে বিমান হামলায় ১৬৮ শিশু নিহত হয়।
ইরানে জনপরিসরকে রাজনৈতিক বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কজুড়ে যুদ্ধ, শহীদদের স্মরণ এবং বিভিন্ন আদর্শিক বার্তা সম্বলিত অসংখ্য বড় বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিলবোর্ড ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রচারণার অংশ।
অবশ্য ট্রাম্পবিরোধী বিলবোর্ডও ইরানে নতুন নয়। গত মে মাসে একটি দ্বিভাষিক বিলবোর্ডে ট্রাম্পের মুখের ওপর হরমুজ প্রণালির প্রতীকী চিত্র বসিয়ে তাঁর ঠোঁট সেলাই করা অবস্থায় দেখানো হয়েছিল। সেখানে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘The Breaking Point’।
এ ছাড়া আরেকটি বিলবোর্ডে পারস্য উপসাগরের ওপর বিশাল একটি মাছ ধরার জালে মার্কিন যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও নৌযান আটকা পড়ার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতার বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তবে নতুন এই বিলবোর্ডটি আগেরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি উসকানিমূলক ও আক্রমণাত্মক বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত আলী খামেনিসহ অন্যান্য নেতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি ইরানের রক্ষণশীল মহলে আরও জোরালো হয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের একটি রক্ষণশীল সংবাদপত্র খামেনির হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে যাঁদের লক্ষ্যবস্তু করা উচিত, তাঁদের ১৩ জন বিদেশি নেতার একটি তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ আরও কয়েকজন পশ্চিমা নেতার ছবি প্রকাশ করা হয়।
এর আগে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁর ছেলে ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাবার দাফন সম্পন্ন হওয়ার দুই দিন পর দেওয়া প্রথম লিখিত বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই প্রতিশোধের আকাঙ্ক্ষা শুধু আমার বা আমাদের প্রশাসনের নয়; এটি ইরানি জাতির দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ইচ্ছা। এই প্রতিশোধ অবশ্যম্ভাবীভাবে বাস্তবায়িত হবে। বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেবই।’
এনএনবাংলা/
Tags: ইরানট্রাম্পের কফিনডোনাল্ড ট্রাম্পতেহরানযুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন