




স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে গোল্ডেন বল জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে লিওনেল মেসি। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এমবাপ্পের সঙ্গে সমান ৮ গোল নিয়ে রয়েছেন তিনি।
সর্বশেষ চার বিশ্বকাপের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার রাতের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ স্পেন। ফাইনালে জিততে পারলে ইতালি (১৯৩৪ ও ১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮ ও ১৯৬২) পর ইতিহাসের তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে আর্জেন্টিনা।
এই সম্ভাব্য ঐতিহাসিক অর্জনের পথে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও দাঁড়িয়ে আছেন বিরল এক রেকর্ডের সামনে। বিশ্বকাপের দুটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সম্মান—গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট—দুটোই জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে সমানে সমান মেসি-এমবাপ্পে
বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুটের দৌড়ে মেসির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৮টি করে। সামনে রয়েছে একটি করে ম্যাচ। ফলে ফাইনালে কে কত গোল করেন, তার ওপরই নির্ভর করবে গোল্ডেন বুটের ভাগ্য।
এমবাপ্পে গোল করলেও কি গোল্ডেন বুট জিতবেন মেসি?
দুই ফুটবলারের গোলসংখ্যা সমান থাকলে ফিফার টাইব্রেকিং নিয়ম কার্যকর হবে। সে ক্ষেত্রে অ্যাসিস্ট, মাঠে খেলার সময় এবং অন্যান্য নির্ধারিত পরিসংখ্যান বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাই এমবাপ্পে গোল করলেও মেসির গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। সবকিছু নির্ভর করবে ফাইনালে দুই তারকার পারফরম্যান্সের ওপর।
গোল্ডেন বল জয়ের দৌড়ে নিরঙ্কুশ ফেভারিট মেসি
টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডেন বল জয়ের হিসাবে মেসিই সবচেয়ে এগিয়ে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনা ফাইনালে জিতুক কিংবা হারুক, এবারের গোল্ডেন বল আবারও উঠতে পারে মেসির হাতেই।
যদি সেটি হয়, তাহলে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়ের অনন্য কীর্তি গড়বেন মেসি। এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। মেসি ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোনো ফুটবলার একাধিক বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জিততে পারেননি।
রদ্রি, ইয়ামাল, বেলিংহামদের ছাড়িয়ে এগিয়ে মেসি
এবার গোল্ডেন বল জয়ের পথে মেসির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিকে। অনেকেই তার পারফরম্যান্সকে ২০১৮ বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল জয়ী লুকা মদরিচের সঙ্গে তুলনা করছেন। এছাড়া লামিন ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল, জুড বেলিংহাম এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে মেসি রয়েছেন অনেকটাই এগিয়ে। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট, সর্বোচ্চ চান্স তৈরি, সর্বোচ্চ সফল ড্রিবল এবং সর্বোচ্চ শটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকার পাশাপাশি নকআউট পর্বের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই রেখেছেন অসাধারণ অবদান। এসব কারণেই তৃতীয় গোল্ডেন বল জয়ের সম্ভাবনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
কীভাবে নির্ধারণ করা হয় গোল্ডেন বল?
গোল্ডেন বল নির্বাচনের ক্ষেত্রে একজন ফুটবলারের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান বিবেচনা করা হয়। ফিফার টেকনিক্যাল স্টাডি গ্রুপ টুর্নামেন্টজুড়ে সেরা পারফর্মারদের তালিকা তৈরি করে। এরপর স্বীকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের ভোটের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় বিজয়ী।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফাইনালের আগেই গোল্ডেন বলের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যায়। তাই এই পুরস্কার সবসময় চ্যাম্পিয়ন দলের কোনো খেলোয়াড়ের হাতেই উঠবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই। ২০১৪ সালে লিওনেল মেসি এবং ২০১৮ সালে লুকা মদরিচ তারই উদাহরণ।
একই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল ও বুট—অপেক্ষায় নতুন ইতিহাস
মেসি যদি এবার গোল্ডেন বলের পাশাপাশি গোল্ডেন বুটও জিততে পারেন, তাহলে ইতিহাসের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে একই বিশ্বকাপে দুটি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মান জয়ের কীর্তি গড়বেন। এর আগে ১৯৭৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মারিও কেম্পেস, ১৯৮২ বিশ্বকাপে ইতালির পাওলো রসি এবং ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি একই আসরে গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট—দুটোই জিতেছিলেন।
এনএনবাংলা/
Tags: FIFA World Cup Final Lionel MessiKylian MbappeMessi Golden BallMessi Golden Bootলিওনেল মেসি
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন