Skip to content

Upcoming
France
0-0
England
Source: ESPN

ফ্রান্সকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন

তর্ক সাপেক্ষে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগ ছিল ফ্রান্সের। তবে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগের সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান ডেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের নেতৃত্বাধীন আক্রমণভাগ ছিল কার্যত নিষ্প্রভ। পুরো ম্যাচে গোলের লক্ষ্যে মাত্র চারটি শট নিতে পেরেছে লেস ব্লুজরা। অন্যদিকে প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধে পাওয়া দুটি বড় সুযোগই কাজে লাগিয়ে ২-০ গোলের জয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেছে স্পেন।

এর মাধ্যমে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল দুই বছর আগে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়া লা রোজারা। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তুলেছিল স্পেন। আগামী ১৯ জুলাই রাতে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে নামবেন লামিন ইয়ামাল, রদ্রি ও সতীর্থরা।

মঙ্গলবার ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ২২তম মিনিটে এগিয়ে যায় স্পেন। বক্সের ভেতরে লামিন ইয়ামালকে ফাউল করেন ফ্রান্সের অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। শূন্যে ভাসতে থাকা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ‘ব্লাইন্ড শট’ নিলেও বলের বদলে ইয়ামালের গায়ে লাথি লাগে তার। এতে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে কোনো ভুল করেননি রেফারি।

পেনাল্টি থেকে স্পেনের ২৯ বছর বয়সী স্ট্রাইকার মাইকেল ওয়ারসাবাল নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। সেই লিড নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে স্পেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে লা রোজারা। স্পেনের নাম্বার টেন দানি অলমোর পাস থেকে গোল করেন রাইট ব্যাক পেদ্রো পোরো। দুই গোল হজমের পরও আক্রমণে ধার বাড়াতে পারেনি ফ্রান্স। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয় তারা।

পরিসংখ্যান বলছে, ফ্রান্স ১৪টি আক্রমণ গড়ে তুলেছিল, ৪৯ শতাংশ বলের দখল রেখেছিল এবং গোলমুখে চারটি শট নিয়েছিল। তবে এর মধ্যে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনকে সত্যিকারের পরীক্ষায় ফেলতে পেরেছে মাত্র দুটি। বিপরীতে স্পেন আক্রমণ তুলেছে ১০টি, কিন্তু তাদের সুযোগগুলো ছিল অনেক বেশি পরিষ্কার ও কার্যকর।

পুরো ম্যাচজুড়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের ‘ডাইরেক্ট তিকিতাকা’ বা ‘ফ্যামিলি ফুটবল’-এর কাছে পরাস্ত হয়েছে ফ্রান্স। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে স্পেনের পদ্ধতিগত ‘পজিশনাল অ্যান্টি-ফুটবল’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দুই গোলের লিড নেওয়ার পর ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠলেও বেশিরভাগ সময় আক্রমণ শেষ না করে লম্বা ব্যাক পাসের মাধ্যমে বারবার ফ্রান্সের ছন্দ ভেঙে দেয় স্পেন। মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত দে লা ফুয়েন্তের কৌশল ভাঙার কোনো কার্যকর উপায় খুঁজে পায়নি।

এনএনবাংলা/