সাম্প্রতিক
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভয়ে তুরস্ক ছাড়ার সময় বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প একাত্তর টিভির চেয়ারম্যান-সিওওসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সমন সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি থাকবে জুলাই জাদুঘর গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে সংসদ সচিবালয়ের চিঠি সৌরভ ও ডোনাকে হত্যার হুমকি, কলকাতা পুলিশের তদন্ত শুরু বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয় কৃষককে আটক গ্রামবাসীর বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেবে সরকার
Skip to content

রাজধানীতে গ্যাসের জন্য হাহাকার

সিএনজি স্টেশনে গ্যাস নেই, বাসার চুলাতেও আগুন জ্বলে না

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে আবারও তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কোথাও স্টেশন বন্ধ করে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও গ্যাসের আশায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। একই সময়ে বাসাবাড়িতেও গ্যাসের চাপ এতটাই কম যে অনেক এলাকায় চুলা জ্বললেও রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজধানীর মালিবাগ, তেজগাঁও, বাড্ডা, খিলক্ষেত, উত্তরা ও মিরপুরের বেশ কয়েকটি সিএনজি স্টেশন ঘুরে গ্যাস না থাকার চিত্র দেখা গেছে। কোনো কোনো স্টেশনের সামনে ‘গ্যাস নেই’ লেখা সাইনবোর্ডও টানানো হয়েছে।

মেরুলবাড্ডার জামান ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী মনোয়ার বলেন, সকাল থেকেই স্টেশনে গ্যাস নেই। এ কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। কখন সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা তারা জানেন না। তবে রাত ১২টার দিকে কিছুটা গ্যাস আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

আকিজ ফিলিং স্টেশনের কর্মী জানান, সাধারণত রাত ১২টার পর কিছুটা গ্যাসের সরবরাহ পাওয়া যায়। শুক্রবার বিকেল ও শনিবার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও রোববার থেকে আবারও সরবরাহ কমে গেছে। ফলে গ্যাসের জন্য স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।

গ্যাসের অভাবে রাস্তায় আটকে যানবাহন

গ্যাস না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরাও। সিএনজি চালক রফিক বলেন, রাতে সামান্য গ্যাস পেয়েছিলেন। সেটুকু দিয়ে রাত ১২টা পর্যন্ত গাড়ি চালিয়েছেন। এরপর আর গ্যাস না পাওয়ায় মঙ্গলবার সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে বসে আছেন।

প্রাইভেটকার চালক রাজু বলেন, আগের তুলনায় গ্যাসের সংকট আরও বেড়েছে। দিনের বেলাতেও এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে গাড়ি চালাতে না পারায় আয়-রোজগার নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চালকরা।

তিনি বলেন, গাড়ি চালাতে না পারলে চুক্তির টাকা পরিশোধ করা এবং সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

বাসাবাড়িতেও কমেছে গ্যাসের চাপ

শুধু সিএনজি স্টেশন নয়, গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বাসাবাড়িতেও। রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, বনশ্রী ও খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে গ্যাসের সরবরাহ কম থাকার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাস থাকলেও চাপ এত কম যে রান্না করা যাচ্ছে না।

বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা রক্সী বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে বাসায় গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করতে হচ্ছে।

ডেমরার আরকে গৃহিণী বলেন, তাদের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাসের সমস্যা চলছে। গ্যাসের ওপর নির্ভর না করে এখন ইলেকট্রিক চুলাতেই রান্না করতে হচ্ছে।

বাড্ডার বাসিন্দা দেলোয়ারা বেগম জানান, গ্যাসের পাশাপাশি বিদ্যুৎ নিয়েও বিভিন্ন সময় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ফলে পরিবারের দৈনন্দিন কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর হাজার হাজার পরিবারকে বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। একই সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকারের চালকরাও জ্বালানি সংকটে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

কেন রাজধানীতে গ্যাস সংকট?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মহেশখালীতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের কারণে এলএনজি খালাসে বিলম্ব এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আবাসিক, সিএনজি ও শিল্প খাতেও।

তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এনএনবাংলা/