বই দেখে লেখার ভিডিও করায় ২ সাংবাদিকের ওপর হামলা

মেহেরপুরের গাংনীতে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে আরও সাত-আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহাম্মেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি এসএম তারিক।
সাংবাদিক রাব্বি আহাম্মেদ জানান, টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের বই দেখে লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে তারা কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের পরীক্ষাকেন্দ্রে যান। সেখানে গিয়ে তারা কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে বই খুলে পরীক্ষা দিতে দেখেন। বিষয়টি ভিডিও ধারণ করতে গেলে শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব, বাবর আলীসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান।
সাংবাদিক এসএম তারিক বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার হলে গিয়ে দেখি, পরীক্ষার্থীরা বই দেখে লিখছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুই শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালান। তারা আমাদের দুটি মোবাইল ফোনসেট এবং টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নেন। পরে আমাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখান থেকে কৌশলে বের হয়ে আসি।’
এ ঘটনায় শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও বাবর আলীর নাম উল্লেখ করে আরও সাত-আটজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে গাংনী থানায় মামলা করেছেন সাংবাদিক রাব্বি আহাম্মেদ।
তবে সাংবাদিকদের মারধর এবং মোবাইল ফোনসেট কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব। তিনি বলেন, তাদের জ্ঞাতসারে পরীক্ষার্থীদের বই দেখে লিখতে দেওয়া হয় না। পরীক্ষায় বই দেখে লেখার কোনো নিয়ম নেই।
এদিকে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মেহেরপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক রাব্বি আহাম্মেদ বাদী হয়ে দুজন শিক্ষকের নাম উল্লেখসহ সাত-আটজন অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এনএনবাংলা/

