তৃতীয় দেশে অভিবাসী বহিষ্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে আদালতের বাধা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। এরই অংশ হিসেবে অসংখ্য মানুষকে হাত-পায়ে শিকল বেঁধে নিজ দেশে ফেরত পাঠায়। শুধু এটাই নয়, ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে তাদের কোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই এমন তৃতীয় দেশে ডিপোর্ট করেছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু এজেন্সি।
ট্রাম্পের নীতিতে ডিপোর্টের আওতায় কোন অভিবাসী নিজ দেশে ফেরত যেতে না চাইলে ৬ ঘন্টার নোটিশে তাকে তৃতীয় দেশগুলোতে (অধিকাংশই আফ্রিকান দেশ) নির্বাসনে পাঠাতো। এসব দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে উগান্ডা, গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের দেশগুলো। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যেই ২৯টি দেশে ২৫ হাজার অবৈধ/কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীকে নির্বাসনে পাঠিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের গৃহীত নীতিটি বাতিল করেছে। এই নীতির আওতায় কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা জানানোর সুযোগ না দিয়েই তাদের নিজ দেশের বাইরে অন্য কোনো দেশে দ্রুত নির্বাসন দিতে পারত। বোস্টন ভিত্তিক ‘ফাস্টর্ ইউএস সার্কিট কোর্ট অফ আপিলস’ এর তিন বিচারকের একটি প্যানেল নিম্ন আদালতের বিচারকের ফেব্রুয়ারির সিদ্ধান্তটি মূলত বহাল রেখেছে। ঐ রায়ে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নীতিটিকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আপীল বিভাগের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে যেতে পারে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।
আদালতের রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো অভিবাসীকে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা বা নির্যাতনের ঝুঁকির বিষয়ে আপত্তি জানানোর ‘অর্থবহ’ সুযোগ দিতে হবে। বিচারকরা বলেন, আইনে নির্ধারিত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে কাউকে এমন দেশে পাঠানো যাবে না, যার সঙ্গে ওই অভিবাসীর কোনো ধরনের সংযোগ বা সম্পর্ক নেই। তবে পদ্ধতিগত কারণে আগের রায়ের একটি অংশ আদালত বাতিল করেছে, যা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এমন দেশে পাঠানোর চেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল যেখানে তাদের কোনো ব্যক্তিগত সংযোগ রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ফার্স্টের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘থার্ড কান্ট্রি ডিপোর্টেশন ওয়াচ’-এর তথ্য বলছে, ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ২৯টি তৃতীয় দেশের সঙ্গে ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীকে ফেরত পাঠানোর চুক্তি করেছে। উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্ট কিউবা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের নাগরিকসহ আটজনকে দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর পথ পরিষ্কার করেছিল, যদিও দেশটিতে অপরাধ ও সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতা রয়েছে।
এনএনবাংলা/এফএস
