নিউইয়র্কে ইরানিদের জন্য ‘নিষেধের বেড়াজাল’, দোকানেও যেতে পারবেন না

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে ইরানি প্রেসিডেন্ট ও তার প্রতিনিধিদলকে কঠোর চলাচল বিধিনিষেধের মধ্যে থাকতে হবে। নির্ধারিত এলাকার বাইরে যাওয়ার পাশাপাশি অনুমতি ছাড়া দোকানে যাওয়া এবং বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সীমিতসংখ্যক প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেন পেজেশকিয়ান। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে ইরানি প্রতিনিধিরা ম্যানহাটনের হোটেল থেকে জাতিসংঘের সদরদপ্তর পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবেন। তবে অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের মতো শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবাধে চলাফেরার সুযোগ তাদের থাকবে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে পার্কে যাওয়ার অনুমতি নেই ইরানি প্রতিনিধিদের। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো দোকানেও যেতে পারবেন না তারা। পাশাপাশি বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রেও তাদের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকেই ইরানি প্রতিনিধিদের ওপর এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর আওতায় তাদের বিমানবন্দর, ম্যানহাটনের মিলেনিয়াম হিলটন হোটেল এবং জাতিসংঘের সদরদপ্তরের মধ্যে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে নিউইয়র্ক সফরের সময় ইরানি প্রতিনিধিরা ওই হোটেলেই অবস্থান করছেন।
আগামী বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে। অন্যান্য দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও তার বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ চলার মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্টের জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দেশের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর সেই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্র সফরের নজির তুলনামূলকভাবে বিরল।
তবে জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এনএনবাংলা/
