হরমুজ প্রণালী খোলার আশা ক্ষীণ হওয়ায় বিশ্ববাজারে শেয়ারের দরপতন ও তেলের দাম বৃদ্ধি

হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসায় মঙ্গলবার এশিয়ার বেশিরভাগ শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। একই সঙ্গে তেলের দামও বেড়েছে। এর মধ্যে আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে বলে বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমার সম্ভাবনাও সপ্তাহান্তে ধাক্কা খায়। ইরানের দেওয়া সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন।
যদিও ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহেই আলোচনা আবার শুরু হবে। তবে এতে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কাটেনি। বরং তারা মনে করছেন, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেডকে আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে হতে পারে।
সোমবার ট্রাম্প অ্যাক্সিওসের একটি প্রতিবেদনও অস্বীকার করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং বিদেশে জব্দ ইরানি অর্থ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ‘অ্যাক্সিওস এইমাত্র একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যে ‘ট্রাম্প’ ইরানকে নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় এবং জব্দ অর্থ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এটি সত্য নয়। আমি তাদের কিছুই প্রস্তাব করিনি!’
প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছু নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলে ট্রাম্প দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা অর্থ ছেড়ে দিতে রাজি আছেন।
৮০ বছর বয়সী রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ওই প্রতিবেদনকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেন এবং সংবাদমাধ্যমটিকে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ধারণা করা হচ্ছে, বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় হওয়া বিভিন্ন বার্তা নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরান যে শর্তগুলো দিয়েছে, সেগুলোই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে।
তবে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মনে করছেন, নভেম্বরের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সমঝোতা হওয়া কঠিন।বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূল, বাব আল-মান্দাব প্রণালীসহ, নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক ইয়ান লিংগেন বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এই সংঘাত আরও কিছু সময় বাজারের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার বাস্তবতার সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে মানিয়ে নিতে হবে।’
মঙ্গলবার প্রধান দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সংঘাত নিরসনে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় জ্বালানির দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মোটরচালকদের সংগঠন আরএসি জানিয়েছে, দেশটিতে ডিজেলের গড় দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিটের তিনটি প্রধান সূচকই দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করায় এশিয়ার শেয়ারবাজারেও চাপ দেখা দেয়।
মঙ্গলবার টোকিও, সিউল, হংকং, সাংহাই, সিঙ্গাপুর, তাইপে, ওয়েলিংটন, ম্যানিলা ও সিডনির শেয়ারবাজারে সূচক কমেছে।
সোমবার বড় ধরনের দরপতনের পর মঙ্গলবারও স্বর্ণের দাম প্রায় ৪ হাজার ১৬০ ডলারের আশপাশে ছিল। সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের কাছে কোনো সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমেছে।
এদিকে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য ফেডের পরবর্তী সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। বাজারে এখন অক্টোবরের শেষে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এনএনবাংলা/ইএস
