সাম্প্রতিক
বিএনপি চাঁদাবাজ দল—এটা ‘ঢালাও’ অভিযোগ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলা সিনেমার মতো ‘ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে’: আসিফ মাহমুদ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪ ৫৩৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সালমান এফ রহমান-শায়ানসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ভারতের উত্তর প্রদেশে ভারি বৃষ্টিতে ৫৬ মৃ’ত্যু, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারের বেশি বাড়িঘর সংবিধান সংশোধনে আবারও গণভোট হবে: বিশেষ কমিটি ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুলের সঙ্গে আ’লীগের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নারীদের যাতায়াত সুবিধায় সড়কে নামছে আরও ১০০ পিংক বাস আগামী দুই মাসে জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের প্রস্তুতি প্রধানমন্ত্রীর রাজধানীতে ৮ মাসে ৭২৩ চাঁদাবাজির মামলা, তদন্তে প্রমাণ মিলেছে ৮৫ শতাংশের
Skip to content

কেসিসি’র তেল চুরির ঘটনায় শাস্তির মুখোমুখি হেড মেকানিক

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত গাড়ির জ্বালানি তেল চুরির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তিন জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে ব্যাক হুইল লোডার চালক এনায়েত হোসেন বাবলুকে সাময়িক বরখাস্ত, বাবলুর সহকারী হেলপার মো. সুরুজের আউটসোর্সিং নিয়োগ বাতিল এবং হেড মেকানিক মোহাম্মদ আলীকে ৬ মাসের ছুটিতে পাঠিয়েছে কেসিসি।

এরআগে  এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ছয় মাস পর প্রতিবেদন জমা দেন। কমিটি তেল চুরির সত্যতা পাওয়ায় চালক, হেলপার ও হেড মেকানিককে শাস্তির সুপারিশ করেন। গত বৃহস্পতিবার তাদের শাস্তির অফিস আদেশ জারি হলেও সোমবার বিষয়টি প্রকাশ হয়।

কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ কেসিসি’র খালিশপুর অঞ্চলের এসটিএস পয়েন্টে চালক এনায়েত হোসেন বাবলু ও মো. সুরুজ ব্যাক-হুইল লোডার-৬ এর (বর্জ্য ট্রাকে তোলার কাজে ব্যবহৃত যান) ট্যাংকের মুখ খুলে পাইপের মাধ্যমে জালানি তেল চুরি করে পৃথক একটি পাত্রে সংরক্ষণ করছিলেন। এ সময় নুরুজ্জামান সুমন নামে কেসিসি’র একজন কনজারভেন্সি সুপারভাইজার বিষয়টি দেখে ফেলে প্রশাসককে জানান এবং ওই তেলের পাত্র সংরক্ষণ করেন। কেসিসি’র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তেল চুরির প্রাথমিক সত্যতা পান। ওইদিনই চালক বাবলুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। কেসিসি’র পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যদিও চুরির বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কয়েক দফা তদন্ত কমিটি পরিবর্তন করা হয়।

প্রায় ছয় মাস পর গত ২২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি তিনজনকে অভিযুক্ত করে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন। সেই অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের শাস্তির আদেশ জারি করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কেসিসি’র সচিব মো. রেজা রশীদ বাসস’কে জানান, তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তিন জনের মধ্যে এনায়েত হোসেন বাবলু কেসিসি’র স্থায়ী শ্রমিক। তাকে সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুরুজ আউটসোর্সিং কর্মী হওয়ায় তার নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। তদন্তকালে হেড মেকানিক মোহাম্মদ আলী মিথ্যা তথ্য দিয়ে চালককে বাঁচানোর চেষ্টা করায় তাকেও শাস্তির সুপারিশ করেছে কমিটি। তবে, তিনি শারীরিকভাবে প্যারালাইজড থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে ৬ মাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, এরআগেও বিভিন্ন সময় খুলনা সিটি করপোরেশনের যানবাহন থেকে তেল চুরি, এমনকি কেসিসি’র পেট্রল পাম্প থেকেও ভুয়া স্লিপ বা ডিও লেটার দিয়ে সুন্দরবনের টুরিস্ট লঞ্চে তেল পাচারের ঘটনা ঘটেছে। যদিও উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কখনোই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তবে, এবারই প্রথম কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হলো চোরেরা। তারপরও তেল চোর সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য এখনো কেসিসি’তে বহাল তবিয়তে রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এনএনবাংলা/ইএস