৩৪ দিন পর ‘শর্তসাপেক্ষে’ ক্লাসে ফিরছেন চুয়েট শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের ভাষ্য, ক্লাসে ফেরা মানেই দাবি থেকে সরে আসা নয়।
রোববার (২৫ অক্টোবর) শিক্ষকদের উদ্দেশে দেওয়া এক খোলা চিঠিতে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই দিন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা থেকেও শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ক্লাসে ফিরতে চান, আন্দোলনও চলবে
খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আর একাডেমিক ক্ষতি বাড়াতে চান না তারা। দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা।
তবে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্তকে আন্দোলন থেকে সরে আসা হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আন্দোলন চলবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা আবারও কঠোর আন্দোলনে যাবেন। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও জানিয়েছেন।
সংঘাত নয়, সংকটের সম্মানজনক সমাধান চান শিক্ষার্থীরা
শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা সংঘাত কিংবা অচলাবস্থা চান না। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের দাবি আদায় করতে চান। এ জন্য একাডেমিক কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ বলেন, দীর্ঘদিন ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরে পেতে চান। তবে ক্লাসে ফেরার অর্থ ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসা নয়। অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তারা সংঘাতের পরিবর্তে সংকটের সম্মানজনক সমাধান চান।
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান শিক্ষক সমিতির
এদিকে রোববার দুপুরে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির বলেন, সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীরাও শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন। অন্যান্য সিদ্ধান্ত পরে বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হবে।
তিনি আরও জানান, ক্লাস শুরুর তারিখ সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজ নিজভাবে নির্ধারণ করবে।
যেভাবে শুরু হয় চুয়েটে অচলাবস্থা
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
দীর্ঘ এই অচলাবস্থার পর এখন শ্রেণিকক্ষে ফেরার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাবেক উপাচার্যের পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার অবস্থানে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে চুয়েটে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার প্রক্রিয়া নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।
এনএনবাংলা/
