সরকার নিজেদের ব্যর্থতা বিরোধীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালাচ্ছে
নিজেদের ব্যর্থতার দায় বিরোধীদের ওপর চাপিয়ে সরকার জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে সরানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধ করতে না পারা, দ্রব্যমূল্যের চাপ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে। চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করানোর মাধ্যমে জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করলেও শুধু পদত্যাগের মধ্য দিয়ে অপরাধের বিচার শেষ হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘জুলাই সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের আলোচনার মধ্য দিয়ে অধিকাংশ বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও সনদ বাস্তবায়নের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন ও সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয়। জামায়াতের অবস্থান ছিল, আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে, এরপর সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু একই দিনে দুটি নির্বাচন বা কার্যক্রম আয়োজনের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিষয়গুলো একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগে কোনো ধরনের সমঝোতা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে বিরোধী দলের আলোচনায় বসা উচিত। জনগণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকেই নিতে হবে। অতীতে সংবিধান সংশোধনের পর আদালতে তা বাতিল হওয়ার নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন কোনো প্রক্রিয়ায় এগোনো উচিত নয়, যাতে শেষ পর্যন্ত সংস্কারের উদ্যোগ আইনি জটিলতায় পড়ে ব্যর্থ হয়।
তিনি পঞ্চগড়ে চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রির খবরের উল্লেখ করে বলেন, উৎপাদিত পণ্যের উপযুক্ত দাম না পেয়ে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অথচ রাজধানীতে সেই পণ্য একই দামে পাওয়া যায় না। কৃষক ও ভোক্তার মধ্যে দামের এই ব্যবধানের কারণ খতিয়ে দেখা এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এনএনবাংলা/এনজেড
