সাম্প্রতিক
Skip to content

এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ, নতুন দায়িত্বে হাসনাত-সারজিস-আসিফ-পাটওয়ারী

বাঁ দিক থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আব্দুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে আখতার হোসেন বহাল রয়েছেন। তবে শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকটি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। অন্যদিকে, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সারজিস আলম।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে দলের দপ্তর সেল সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্গঠিত কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়।

দলটির প্রতিষ্ঠার প্রায় পৌনে দুই বছর পার হলেও এখনো জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। এর মধ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রদবদল আনা হলো।

শীর্ষ পদে পরিবর্তন, নতুন দায়িত্বে হাসনাত-পাটওয়ারী
পুনর্গঠিত কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। এর আগে হাসনাত আবদুল্লাহ দলের মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে, দলের মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম এবং মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব করা হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত সামান্তা শারমিন আগে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। নতুন কমিটিতে তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। অর্থাৎ, আগের তুলনায় তার পদে পরিবর্তন এসেছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা হয়। এ প্রেক্ষাপটে সামান্তা শারমিনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা কমে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিব পদে যারা
নতুন কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, ড. আতিক মুজাহিদ, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার, আকরাম হুসাইন, সালেহ উদ্দিন সিফাত, ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, ব্যারিস্টার সানি আব্দুল হক, মাহবুব আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, মাওলানা আশরাফ মাহাদী, সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, জাবেদ রাসিন, এহতেশাম হক, দিলশানা পারুল, প্রীতম দাশ, সামান্তা শারমিন, ইসহাক সরকার, তারেক এ আদেল ও এ কে ফ্লোরাকে।

যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (আন্তর্জাতিক), এস এম সাইফ মুস্তাফিজ (কোষাধ্যক্ষ), মো. নিজাম উদ্দিন, নাহিদা সারোয়ার নিভা, ফরিদুল হক ও মো. আতাউল্লাহ।

বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে নতুন দায়িত্ব
কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন তাহসীন রিয়াজ। সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক হয়েছেন আশরেফা খাতুন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সাদিয়া ফারজানা দিনা এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ইফতেখারুল ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন।

আইন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। সহ-আইন সম্পাদক হয়েছেন অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারি ও অ্যাডভোকেট ছেহায়েত উল্লাহ।

প্রচার সম্পাদক হয়েছেন জয়নাল আবেদীন শিশির। সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেজবাহ কামাল মুন্না ও শাহাদাত হোসেন। শিক্ষা সম্পাদক হয়েছেন ফয়সাল মাহমুদ শান্ত এবং সহ-শিক্ষা সম্পাদক সাকিব শাহরিয়ার।

নারীবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূরকে। কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক হয়েছেন মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং সহ-সম্পাদক হয়েছেন এহসানুল মাহবুব জোবায়ের।

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। মিডিয়া সম্পাদক হয়েছেন ইয়াসির আরাফাত এবং সহ-মিডিয়া সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

ধর্ম সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মাওলানা সানাউল্লাহ খান। সহ-ধর্ম সম্পাদক হয়েছেন সাগর বড়ুয়া ও জয় বিশ্বাস। গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন মশিউর রহমান।

সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লুৎফর রহমান এবং সহ-সংস্কৃতি সম্পাদক হয়েছেন মেহেরাব সিফাত। শ্রমবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খানকে।

সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন সাইয়েদ জামিল এবং সহ-সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহবুব আলম। তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক হয়েছেন রাশেল উল আলম এবং সহ-তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক তাওহিদ তানজিম। প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ।

বিভাগীয় সাংগঠনিক দায়িত্বে যারা
পুনর্গঠিত কমিটিতে দেশের বিভিন্ন বিভাগের সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে।

ঢাকা বিভাগের উত্তর অংশের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সাইফুল্লাহ হায়দার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী। ঢাকা বিভাগের দক্ষিণ অংশের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান অপু।

চট্টগ্রাম বিভাগের দক্ষিণ অংশের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন এ এস এম সুজাউদ্দীন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাওয়াদুল করিম। উত্তর অংশের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন নাজিদ নওরোজ শাহ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সৈকত।

রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ইমরান ইমন এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব মাহাদী। রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. কামরুল ইসলাম দর্পণ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন।

সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন প্রকৌশলী কামরুল আরিফ এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাহিদ উদ্দিন তারেক। খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিন ইরা এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা রহমতুল্লাহ।

বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন ড. শামীম হামিদী এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সালমান। ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়াজ মেহেরাব তালুকদার এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তানহা শান্তা।

ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক (ডায়াস্পোরা) হিসেবে তালিকায় রয়েছেন রাফে সালমান রিফাত, তানজিল মাহমুদ, আয়মান রাহাত ও তারেক রেজা। এ বিভাগে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন রিদওয়ান হোসেন অক্ষর, আরাফাত হোসেন আলিফ, জসিম উদ্দিন ও আলমগীর চৌধুরী আকাশ।

এনএনবাংলা/