ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি: নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ এবং দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র বলছে, নতুন কমিটিতে তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং তুলনামূলক ‘ক্লিন ইমেজের’ বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষদের নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা আসার কথা জানানো হলেও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ বা সময়সীমা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়কেন্দ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়াদি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণকারী একটি দায়িত্বশীল সূত্রের আভাস অনুযায়ী, মহানগরীর মতো এত বড় ও সংবেদনশীল একটি সাংগঠনিক ইউনিটের নেতৃত্ব চূড়ান্ত করতে নীতিনির্ধারকদের আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি সেন্টারে ঘটিত এক অনভিপ্রেত সহিংস ঘটনা ও ব্যাপক ভাঙচুরের পর আকস্মিকভাবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন স্তরের ১৪ জন নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এই আকস্মিক ও কঠোর সিদ্ধান্তের পর থেকেই দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র কৌতূহল শুরু হয়েছে।
সভাপতি বা আহ্বায়ক পদে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব। এ ছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রশাসক ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর,বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মামুন হাসান এবং মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সদস্য আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের নামও আলোচনায় রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন এবং দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এ সিদ্দিক সাজু।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে নতুন কমিটি দেওয়া হবে। রাজনৈতিক সংগঠনে পুনর্গঠন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া উল্লেখ করে নতুন কমিটিতে রাজপথের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে।’
দলীয় সূত্রের মতে, নতুন কমিটিতে এমন নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারত্ব বা অন্য কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নেই। একই সঙ্গে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিগুলোও দ্রুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রাজধানীতে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই এর লক্ষ্য।
মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমার কাছে অফিশিয়ালি এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসবে—এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের ব্যাপারে সাইফুল আলম নীরব বলেন, ‘আমি একজন শহীদ জিয়ার সৈনিক এবং খালেদা জিয়ার সৈনিক। দল যখন যে সিদ্ধান্ত নেবে আমি মনে করি ওটাই চূড়ান্ত। আমি রাজনীতি করি। আমার জন্ম ঢাকাতে। আমি ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সেক্রেটারি ছিলাম প্রায় আট বছর। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি ছিলাম। আমার রাজনীতি ঢাকা কেন্দ্রিক। তারপরও ঢাকায় মহানগরী বিএনপির ব্যাপারে দল যে সিদ্ধান্ত নেবে ওটাই চূড়ান্ত।’
মহানগর উত্তর যুবদল ও ছাত্রদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনগুলোতেও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যুবদলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল বেশ কয়েকজন নেতার মতে, যাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র দুর্নাম বা বিতর্কের কালিমা নেই, কেবল এমন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির যুবনেতাদেরই মহানগর উত্তরের নতুন কমিটিতে দায়িত্ব প্রদান করা হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংঘটিত সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের দুয়েকজন নেতার সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও তথ্য তাদের হাতে এসেছে। মূলত সেই উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য ও কঠোর নির্দেশের ফলেই তড়িঘড়ি করে ছাত্রদলের ওই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং সদ্য বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জাহাঙ্গীরের বলেন যে, ‘সরকারি দলে বা ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার সময় দলের ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে দেখতে হয়। আরবি হরফ আলিফের মতো সবসময় সোজা ও সততার সঙ্গে থাকতে হয়। কারণ, সাধারণ নেতাকর্মীদের সামান্য কোনো ভুল বা অপকর্মের দায় শেষ পর্যন্ত সরাসরি সরকারের কাঁধেই এসে পড়ে। আমি রাজনীতি করি রাজনীতিক দলের কর্মী। এই দল যখন যেখানে দায়িত্ব দিয়েছে সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমান কমিটি যেটা বিলুপ্ত হয়েছে সেই কমিটির নামে একজন সদস্য ছিলাম। কাজেই আমাকে যদি দল কোন দায়িত্ব দেয়, অবশ্যই নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে ইনশল্লাহ সে দায়িত্ব পালন করব।’
এনএনবাংলা/এফএস
