সাম্প্রতিক
দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে আগামীকাল কাশ্মীরের সব মসজিদে একই খুতবার প্রস্তাব, সরকারি হস্তক্ষেপে ক্ষোভ আইএমএফের নতুন ঋণ পেতে শর্ত পূরণ করতে হবে: অর্থমন্ত্রী ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের ঘোষণা বাংলাদেশের ভিউয়ের জন্য অন্যকে অপমান কেন? প্রশ্ন মেহজাবীনের ভারতে ‘বাংলাদেশের মত নৈরাজ্য’ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন রাহুল গান্ধী: বিজেপি মুখপাত্র সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি’ গঠনের কার্যক্রম স্থগিত পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলো সাজেক, ভ্রমণে বাধা নেই
Skip to content

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি’ গঠনের কার্যক্রম স্থগিত

ফাইল ছবি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রবিধানমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার জন্য এসব কমিটি গঠন করা হয়। কলেজ পর্যায়ে পরিচালনা পর্ষদ গভর্নিং বডি এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে ম্যানেজিং কমিটি নামে পরিচিত। শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে এসব কমিটি গঠনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা নিয়ে সংশোধিত হয়েছিল প্রবিধানমালা
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রবিধানমালা সংশোধন করা হয়। সংশোধিত নিয়মে বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে ন্যূনতম চার বছর মেয়াদি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং বেসরকারি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়।

এর আগে প্রচলিত নিয়মে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা, শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি বা সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম সভাপতি পদে মনোনয়নের জন্য শিক্ষা বোর্ডে পাঠাতে পারতেন।

কিন্তু সংশোধিত প্রবিধানমালায় সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যদের সরাসরি সভাপতি হওয়ার প্রচলিত সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

জনপ্রতিনিধিদের ফেরানোর দাবি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে নতুন সংসদ সদস্যদের কেউ কেউ সভাপতি পদের যোগ্যতা নিয়ে আপত্তি জানান। তারা আগের মতো জনপ্রতিনিধিদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হওয়ার সুযোগ ফিরিয়ে আনতে প্রবিধানমালা সংশোধনের দাবি তোলেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মার্চে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, সভাপতি পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক নির্ধারণ করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

১৬ মার্চ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরিচালনা কমিটিগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং স্নাতক ডিগ্রিকে যোগ্যতার ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জনপ্রতিনিধিদের আগের মতো সভাপতি হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তখন স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।

শিক্ষায় রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদে জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে সে সময় উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রবীণ শিক্ষকেরা। তাদের আশঙ্কা, এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মাজহারুল হান্নান তখন বলেছিলেন, আগের নিয়ম ফিরিয়ে আনা হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা পেছনের দিকে এগোবে।

এনএনবাংলা/