কাশ্মীরের সব মসজিদে একই খুতবার প্রস্তাব, সরকারি হস্তক্ষেপে ক্ষোভ

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের সব মসজিদে জুমার নামাজে একই খুতবা পাঠের প্রস্তাব ঘিরে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের এ উদ্যোগকে মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান দরখশান আন্দ্রাবি ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির নেত্রী। গত সপ্তাহে তিনি অঞ্চলটির মসজিদগুলোতে অভিন্ন খুতবা চালুর প্রস্তাব ঘোষণা করেন। মাদকাসক্তি, আত্মহত্যা ও মানসিক চাপের মতো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলার যুক্তিতে এ উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি।
তবে কাশ্মীরের আলেমরা বলছেন, খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণের দায়িত্ব ধর্মীয় পণ্ডিতদের, প্রশাসনিক বোর্ডের নয়। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ নাঈম আখতারও প্রস্তাবটির সমালোচনা করে বলেন, ওয়াকফ বোর্ডের দায়িত্ব সম্পত্তি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা; আলেমদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া নয়।
কাশ্মীরের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা মীরওয়াইজ উমর ফারুকের নেতৃত্বাধীন তৌহিদা মজলিস-ই-উলেমাও এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। অঞ্চলটির মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহও প্রস্তাবটির নিন্দা জানিয়েছেন।
বিতর্কের মুখে অবস্থান থেকে সরে এসে দরখশান আন্দ্রাবি জানিয়েছেন, সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে খুতবায় আলোচনার বিষয়টি স্বাধীন আলেম ও খতিবদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নতুন নয়। এর আগে ওয়াকফ বোর্ড দরগা ও মাজারে স্বেচ্ছায় দেওয়া অর্থ সংগ্রহের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মসজিদের ইমাম ও খতিবদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের ফর্ম বিতরণ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে কাশ্মীরের মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়তে পারে।
এনএনবাংলা/
