সাম্প্রতিক
Skip to content

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছর ১০ মাসে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ৩০০ পরিবার

ফাইল ছবি

সড়ক দুর্ঘটনায় গত ৬ বছর ১০ মাসে প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মোটরবাইক, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে।

২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি। এতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পাশাপাশি নিজেদের সংগৃহীত তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। আজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যুর ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অটোরিকশা দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ৫২৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন। এসব ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ২১১টি, তিন সদস্য ১১৮টি, চার সদস্য ৯২টি, পাঁচ সদস্য ৫৩টি, ছয় সদস্য ৩৮টি এবং সাত সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৩টি।

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১৮৬টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭০৮ জন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ৪৮টি, তিন সদস্য ৪৬টি, চার সদস্য ৩৯টি, পাঁচ সদস্য ২৮টি এবং ছয় সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ২০টি। এ ছাড়া ১১ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা চারটি এবং ১৪ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা রয়েছে একটি।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি। তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ৩১টি, চার সদস্য ২৪টি এবং পাঁচ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫২ জন।

অন্যদিকে, অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিন সদস্য ১৫টি, চার সদস্য নয়টি, পাঁচ সদস্য সাতটি এবং আট সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা তিনটি। এ ধরনের ৪৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬২ জন।

বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিন সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা নয়টি এবং চার সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ছয়টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫ জন। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার একটি ঘটনাও রয়েছে।

মোটরবাইক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে প্রাণহানির ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৬ বছর ১০ মাসে এ ধরনের ১৯৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৮৬ জন। একইভাবে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় পিতা-সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩১৮ জন।

কেন একই পরিবারের একাধিক সদস্যের মৃত্যু?

একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির মতে, পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে কাজে বা ভ্রমণে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল এবং অধিকাংশ মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস না থাকা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া এসব যানবাহনের চালকদের অদক্ষতা, বিশ্রাম ছাড়া দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো, মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রে বেপরোয়া মনোভাব, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্ঘটনা কমাতে যেসব সুপারিশ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, সেগুলো হলো-

সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে মোটরবাইক চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি সব মহাসড়কে সড়ক বিভাজক ও সার্ভিস রোড নির্মাণের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে সরাসরি সংযোগ না রেখে নিরাপদ সড়ক নকশা প্রণয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নজরদারি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

এনএনবাংলা/