Skip to content

Upcoming
Germany
0-0
Curaçao
Source: ESPN

ছয়দিনের শিশুপুত্রের জন্য দুধ কিনে বাড়ি ফেরা হলো না তার!

যশোরে ছয়দিনের শিশুপুত্রের জন্য দুধ কিনে বাড়ি ফেরা হলো না আফজাল হোসেনের। পথে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। রবিবার রাত ৮টার দিকে শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আফজাল হোসেন (৩৩) শহরের নাজির শংকরপুর এলাকার কবিরের বাড়ির ভাড়াটিয়া সোলায়মান হোসেনের ছেলে।

সোলায়মান হোসেন জানান, শহরের নাজির শংকরপুর চাতালের মোড়ে তার একটি চায়ের দোকান আছে। আফজাল তার দোকানে ছিল। রাত ৮টার দিকে তার ছয়দিনের শিশুপুত্রের জন্য দুধ নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। চাতালের মোড়ের পুকুর পাড়ে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় দুটি বোমার শব্দ শোনা যায়। লোকজন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আফজাল দিনমজুর ছিল। পাশাপাশি তার চায়ের দোকানে বসে দোকানদারি করতো। ছয়দিন আগে তার একটি পুত্র সন্তান হয়। আরও দুটি ছেলে আছে আফজালের।

স্থানীয়রা জানায়, কিছুদিন আগে নাজির শংকরপুর কোল্ডস্টোরেজ মোড়ের সুজন ওরফে ট্যারা সুজনের সঙ্গে আফজালের বিরোধ সৃষ্টি হয়। আফজালের হাতে মারধরের শিকার হয় সুজন। সেই থেকে প্রতিশোধ নিতে সুজন তার গ্রুপের সদস্যরা আফজালকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সুজনের নামেও একাধিক মামলা আছে থানায়। রোজার মাসের কয়েকদিন আগে সে জেল থেকে মুক্তি পায়।

রমজান নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি নাজির শংকরপুর জিরোপয়েন্টে ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনটি ইজিবাইকে করে ১৪-১৫ জন জিরোপয়েন্ট থেকে দক্ষিণ দিকে চাতালের মোড়ের পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়েছিল। আফজাল পৌঁছানো মাত্রই তাকে পেছন থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে। এ সময় চিৎকার শুনে তিনিসহ অন্যরা এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা পরপর দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তারা চলে গেলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে একটি রিকশায় করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। আধাঘন্টা পর আফজালের মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় ট্যারা সুজনকে দৌঁড়ে যেতে দেখেছে এলাকার লোকজন।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সোহান জানিয়েছেন, রোগীর মাথা ও ঘাড়ের পেছনে ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, নাজির শংকরপুর চাতালের মোড়ে সন্ত্রাসীদের আক্রমণে আফজাল নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এলাকায় পুলিশি অভিযান চলছে।

—ইউএনবি