সাম্প্রতিক
বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মার্কিন ভিসা নিয়ে দুঃসংবাদ, পৌনে ২ লাখ ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভয়ে তুরস্ক ছাড়ার সময় বিমান বদলেছিলেন ট্রাম্প একাত্তর টিভির চেয়ারম্যান-সিওওসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে সমন সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি থাকবে জুলাই জাদুঘর গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে সংসদ সচিবালয়ের চিঠি সৌরভ ও ডোনাকে হত্যার হুমকি, কলকাতা পুলিশের তদন্ত শুরু বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, পাল্টা দুই ভারতীয় কৃষককে আটক গ্রামবাসীর বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেবে সরকার
Skip to content

ঝিনাইদহে গ্রামবাংলার ঐহিত্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজন, দর্শকদের বাধভাঙা উচ্ছ্বাস

গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজন এখন বিরল ঘটনা। একসময় দেশের আনাচে কানাচে ঢাক ঢোল পিটিয়ে গানের তালে তালে আয়োজন করা হতো আনন্দময় এই উৎসবের। বেজে উঠতো কাসার ঘন্টা। তালে তালে চলতো লাঠির কসরত। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা ও পাল্টা আঘাত করতে ঝাপিয়ে পড়তেন লাঠিয়ালরা। তবে সেই ঐতিহ্য এখনো হারিয়ে যায়নি ঝিনাইদের মানুষদের কাছে।

এমনি আয়োজন করেছে ঝিনাইদহের শৈলকূপার বিনোদনেপ্রেমীরা। দর্শকরা খেলার দৃশ্য দেখে আনন্দে ফেটে পড়ছেন। সেই সঙ্গে হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছে লাঠিয়ালদের।

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল মনোমুগ্ধকর লাঠি খেলা। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলার আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ছিল উৎসবের আমেজ।

রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের আয়োজনে এমন উৎসব হয়ে গেল ঝিনাইদহের উজির আলী স্কুল মাঠে।

যা দেখতে ভীড় করেন শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী মানুষ। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লাঠির এই কসরত দেখে মুগ্ধ হয় দর্শকরা।

শহরের কাঞ্চননগর থেকে রেখা দাস বলেন, আমি লাঠিখেলার কথা শুনেছি কিন্তু কোনোদিন দেখিনি।

আজ দেখলাম অনেক ভালো লাগছে দেখতে।

শহরের উদয়পুর এলাকার বিজয় হোসেন বলেন, গ্রামে লাঠিখেলা হয় মাঝে মাঝে। কিন্তু শহরে তো লাঠিখেলার আয়োজন করা হয় না। নতুন বছর উপলক্ষে রবিবার লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়েছে শুনে এলাম।

দেখতে অনেক ভালো লাগছে।

একই এলাকার রানা আহম্মেদ বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে এই ধরনের আয়োজন প্রতি বছর করা দরকার।

আজ এখানে আয়োজন করা হয়েছে এ জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।

বাংলাদেশ লাঠিয়াল বাহিনী ঝিনাইদহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকা বলেন, বাংলার ঐতিহ্য এই লাঠিখেলা হারিয়ে যাওয়ার পথে। আমরা চেষ্টা করছি এটি ধরে রাখতে।

সেই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে এই এতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছি।

এ ব্যাপারে আয়োজক ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. এম হারুন অর রশিদ বলেন, এ বছর থেকে আমরা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে শুরু করেছি হারানো এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে। আমরা এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম যেন আমাদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে।

সেই সঙ্গে শহরের মানুষ যেন আনন্দ উপভোগ করতে পারে।

দিনভর খেলায় ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ১৫টি লাঠিয়াল দলের ৬৫ জন খেলোয়াড় অংশ নেয়।

খেলা শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

—-ইউএনবি