Skip to content

LIVE 45'+4'
Saudi Arabia
1-0
Uruguay
Source: ESPN

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ বিশিষ্ট নাগরিকদের

মানবাধিকার কর্মী, সাংবাদিক, লেখক, যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রচারক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারাসহ দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞার যৌক্তিকতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে- রাষ্ট্রদূতকে লেখা এক চিঠিতে সম্পাদকরা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মিডিয়ার ক্ষেত্রে এটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে?” এবং “কোন বিষয়গুলি বিবেচনা করা হচ্ছে?’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রদূত তার উত্তর পর্বে প্রশ্নের কোনো বিস্তারিত উত্তর দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। তবে গণমাধ্যমকে ভিসা বিধিনিষেধের আওতায় আনার বিষয়ে তার অবস্থানকে সমর্থন করেছেন, যা আমাদের হতবাক করেছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দেশে আমরা দেখেছি, যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে গঠিত জামায়াতে ইসলামীর মতো মৌলবাদী শক্তি, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যেসব সংগঠন ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুসহ প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে নির্মূল করতে চায় এবং বাংলাদেশে তালেবানের ধাঁচের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ‘গণমাধ্যমের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে হাসের মন্তব্যকে উগ্রপন্থী সংগঠন ও স্বাধীনতাবিরোধী মহল মহিমান্বিত করেছে, যারা প্রকাশ্যে পশ্চিমা মূল্যবোধের নিন্দা করে, মুক্তচিন্তাবিদদের ইসলামের শত্রু বলে মনে করে এবং ১৯৭১ সালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তির নিশ্চয়তা দেয়।’

এতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র হিসেবে কাজ করা, যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তির পক্ষে এবং সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষ ও উদারবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি বাশারকেল্লা এরই মধ্যে ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় গণমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে এবং তাকে বাংলাদেশের সত্যিকারের বন্ধু বলে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যা প্রতিটি ধর্মনিরপেক্ষ ব্যক্তির জন্য একটি শীতল বার্তা দেয়।

বিবৃতিতে সই করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসিরউদ্দিন ইউসুফ ও রামেন্দু মজুমদারসহ ১৯০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিসা নীতিতে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকলেও হাস তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি।

এতে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাজাপ্রাপ্ত ও আত্মস্বীকৃত খুনিকে ক্রমাগত আশ্রয় দেওয়ায় ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখার অঙ্গীকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কোনো মিল নেই।

—-ইউএনবি