সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ভারতীয় মুসলিমদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে: এইচআরডব্লিউ

ছবি: এইচআরডব্লিউ

 

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই গত কয়েক সপ্তাহে শত শত বাঙালি মুসলিমকে ভারত জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে।

বুধবার (২৩ জুলাই) নিজেদের ওয়েবসাইটে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাস থেকে হিন্দুত্ববাদী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সরকার বাঙালি মুসলিমদের বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযান জোরদার করে। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ ঠেকানোর একটি পদক্ষেপ।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, এসব বাঙালি মুসলিমদের অনেকেই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা। তারা ভারতীয় নাগরিক। তবে ঠেলে পাঠানোর সময় তাদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, বিজেপি নির্বিচারে বাঙালি মুসলিমদের, এমনকি ভারতীয় নাগরিকদেরও দেশ থেকে বিতাড়িত করে বৈষম্যকে আরও উসকে দিচ্ছে। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করার যে দাবি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ করছে, তা মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ তারা আইনগত প্রক্রিয়া, সংবিধানিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত জুন মাসে ১৮ জনের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন, জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর পর ফেরত আসা ভারতীয় নাগরিক ও এবং আটক ও এখনো নিখোঁজ থাকাদের পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৮ জুলাই একটি প্রতিবেদন দিয়েছে এইচআরডব্লিউ। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এইচআরডব্লিউ বলছে, বিজেপি শাসিত আসাম, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, ওড়িশা ও রাজস্থান রাজ্যের কর্তৃপক্ষ মূলত দরিদ্র মুসলিম অভিবাসী শ্রমিকদের আটক করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের কাছে হস্তান্তর করেছে। কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ আছে যে, নাগরিকত্বের দাবির যথাযথ যাচাই না করেই সীমান্তরক্ষী বাহিনী আটক ব্যক্তিদের বাংলাদেশের দিকে ‘পুশব্যাক’ করতে হুমকি ও মারধরের মতো নিপীড়নমূলক পন্থা অবলম্বন করেছে। এর ফলে, ‘পুশ-আউট’ করা ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ হয়েছে, ভারত সরকার তাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয়েছে।

ভারত সরকার ‘পুশ-আউট’ বা জোরপূর্বক ঠেলে পাঠানো ব্যক্তিদের সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, গত ৭ মে থেকে ১৫ জুনের মধ্যে ভারত বাংলাদেশে দেড় হাজারের বেশি মুসলিম পুরুষ, নারী ও শিশুকে ‘পুশ-ইন’ করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় ১০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী, যারা মায়ানমার থেকে এসেছে। এই ‘পুশ-ইন’ এখনও চলমান।

এনএনবাংলা/আরএম