সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

বারবার ছোট ছোট ভূমিকম্প কিসের ইঙ্গিত?

 

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেল ৬টা ৪ মিনিটে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩.৭, এবং কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। এর আগে একই দিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে আরও একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৩.৩। সেই কম্পনের কেন্দ্র ছিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলা।

এর আগের দিন শুক্রবার সারা দেশে অনুভূত হওয়া ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। ওই কম্পনের কেন্দ্র ছিল ঢাকা থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরে, নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায়। এতে দুই শিশুসহ ১০ জনের প্রাণহানি ঘটে।

টানা তিন দফা ভূমিকম্পে দেশজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলো নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। তাদের অনেকে মনে করছেন—পরপর এই কম্পনগুলো আসন্ন বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হতে পারে।

২০১৬ সালে নেচার জিওসায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণায়ও বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছিল। ওই গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ভূগর্ভে বিপুল পরিমাণ শক্তি সঞ্চিত থাকায় সিলেটে ৭–৮ মাত্রার এবং চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ৮–৯ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প যেকোনো সময় ঘটতে পারে। গবেষণাটি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগীয় অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

এই তথ্য সামনে আসার পর দেশের ভূতত্ত্ববিদ ও পুরকৌশল বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বুয়েটের বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, ঢাকায় ১৩ লাখ, চট্টগ্রামে ৩ লাখ এবং সিলেটে ১ লাখের বেশি বহুতল ভবন রয়েছে—এদের ৭৫ শতাংশই ছয়তলা বা তার বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে এসব ভবনই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

বিষয়টি নিয়ে অধ্যাপক হুমায়ুন আখতার বলেন, মেঘালয়ের শিলং থেকে সিলেট হয়ে ভুটান পর্যন্ত বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ চ্যুতিতে প্রচুর শক্তি জমা রয়েছে। সাম্প্রতিক মৃদু কম্পনগুলো সেই শক্তি বেরিয়ে আসার লক্ষণ, যা বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এভাবে ধারাবাহিকভাবে ছোট ছোট ভূমিকম্প হওয়া আসন্ন বড় ভূমিকম্পের স্পষ্ট সঙ্কেত।

তার মতে, এখনই সময় নষ্ট না করে দেশের প্রধান শহরগুলোতে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি বিষয়ে নিয়মিত মহড়া চালু করা জরুরি। যেমন করোনাকালে মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, তেমনিভাবে ভূমিকম্প প্রস্তুতিকে জনজীবনের নিয়মিত অনুশীলন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এনএনবাংলা/