Skip to content

Upcoming
France
0-0
Iraq
Source: ESPN

কুলাউড়া সীমান্তে ফের বিএসএফ গুলিতে বাংলাদেশী যুবক নিহত

Oplus_131072

জেলা প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার:

কুলাউড়ায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফের গুলিতে সুকিরাম (২৫) নামের এক বাংলাদেশী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া সীমান্তের দশটেকি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত সুকিরাম মুরইছড়া বস্তির দাসনু উরাংয়ের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুরইছড়া সীমান্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৬ ব্যাটালিয়নের আওতায় পড়েছে। সুকিরামসহ স্থানীয় এলাকার কয়েকজন প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার দুপুরে মুরইছড়া সীমান্তের ১ হাজার ৮৪৪ ও ১ হাজার ৮৪৫ নম্বর মূল সীমান্ত খুঁটি এলাকায় গরু চরাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে সুকিরাম গরু আনতে গেলে ভারতের ১৯৯ হিরাছড়া বিএসএফ ক্যাম্পের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে বিএসএফ তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তাঁর পিঠে গুলি লাগলে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে সুকিরামের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শারমিন ফারহানা জেরিন তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, সুকিরামকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের পিঠে গুলির চিহ্ন রয়েছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে সুকিরাম মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ মৌলভীবাজার জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। সীমান্তের শূন্যরেখা অতিক্রম করায় বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক সুকিরাম মারা যেতে পারেন বলে তাঁরা ধারণা করছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ৩১ মে কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর গুলিতে প্রদীপ বৈদ্য (২২) নামে বাংলাদেশি যুবক নিহত হলে বিএসএফ তার লাশ নিয়ে যায়। বিজিবির প্রতিবাদের কারনে প্রদীপ বৈদ্যের মরদেহ ৩৮ ঘন্টা পর হস্তান্তর করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। নিহত প্রদীপ বৈদ্য শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রামের বাসিন্দা শৈলন্দ্র বৈদ্যের পুত্র এবং তিনি পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।