সিলেটে গ্যাস সংকটে ক্ষুব্ধ পরিবহন চালকদের সড়ক অবরোধ
জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে চরম বিপর্যয়ের জেরে সিলেটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিক ও চালকরা শুক্রবার সকাল থেকে সিলেটের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধ করে নজিরবিহীন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।
বিশেষ করে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের শিবগঞ্জ এলাকায় পাম্পের সামনে শত শত চালক গাড়ি আড়াআড়ি করে রেখে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেন, যার ফলে দীর্ঘ যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে পুরো এলাকা। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে খাদিমপাড়া গ্যাস পাম্পে গ্যাস না পেয়ে সড়ক অবরোধ করেন চালকরা। এতে করে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ভোড়ান্তিতে পড়েন যাত্রী সাধারণরা।
শুক্রবার সকাল ৮টায় রেশনিংয়ের নিয়ম মেনে পাম্পগুলো খোলা হলেও লাইনে দাঁড়ানো চালকরা চরম হতাশায় পড়েন।পাম্পগুলোতে গ্যাসের চাপ (প্রেসার) শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় দীর্ঘ অপেক্ষার পরও কোনো গাড়ি গ্যাস পায়নি। ফলে দুপুরের মধ্যেই সিলেটের ৫৪টি সিএনজি স্টেশনের সিংহভাগই কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে।
শিবগঞ্জে অবরোধ, তীব্র যানজটসকাল থেকে শিবগঞ্জের ‘সুরমা অটো কেয়ার’ ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাস নিতে আসা শত শত সিএনজি অটোরিকশা ও লেগুনার চালকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই গ্যাস বন্ধ ও রেশনিংয়ের প্রতিবাদে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন এবং সিলেট-তামাবিল সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় তারা জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও পাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। অবরোধের খবর পেয়ে সোবহানীঘাট, দক্ষিণ সুরমা ও বিয়ানীবাজার এলাকার পাম্পগুলোতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং চালকরা আঞ্চলিক সড়কগুলোতে বিক্ষোভ করেন।
জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এলএনজি প্ল্যান্টে সমস্যার কারণে এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যে সঙ্কট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাম্প মালিকেরা জানিয়েছেন, আগে থেকেই লিমিট দিয়ে রেখেছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এই লিমিটের কারণে প্রতি মাসের শেষ সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে পরিবহনে গ্যাসের জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গত এক সপ্তাহ আগে এভাবে হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছিলো। এতে পাম্প মালিক এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
সিএনজি ও পেট্রোল পাম্প এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় নেতা জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানিয়েছেন, লিমিট দেয়ার কারণে এমনিতেই সিলেটে চাহিদার দুই তৃতীয়াংশ গ্যাস মিলে। মাসের শেষ দিকে এসে অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হয়। গত বুধবার জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে লিমিটের ৫০ শতাংশ গ্যাস কম দেয়ার কথা জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেটি কার্যকর করেছে।
তিনি বলেন, ‘এটি কোনোভাবে সহ্য করার মতো নয়।’ এতে অস্থিরতা ও ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
সিএনজি পেট্রলপাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার রিয়াসদ আজিম আদনাদ জানিয়েছেন, সিলেটে প্রায় ৫৪টি গ্যাস পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে গতকাল দুপুরের পর থেকে এক এক করে বেশিরভাগ পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার কারণে যানবাহনে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ চাপ বাড়িয়ে দিলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’ ফের পুরোদমে বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে গ্যাস চাপ কম থাকার বিষয়ে ১০ আগস্ট সিলেটে বিজ্ঞপ্তি জারি করে রেখেছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেয়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এনএলজি টার্মিনাল এফএসআরইউ ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে অস্বাভাবিক হারে গ্যাসে সরবরাহ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সারা দেশের মতো সিলেট অঞ্চলেও স্বল্প চাপ বিরাজ করছে।
জালালাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আতিকুর রহমান জানান, এনএলজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে সিলেট অঞ্চলে স্বল্প চাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি আগামী দু’এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এই সময়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহবান জানান তিনি।
এনএনবাংলা/
