সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

কাঁটাতারের ওপারে খালেদা জিয়া, স্মৃতিতে আজও তিনি শুধুই ‘বিউটি’

 

কাঁটাতারের এপারে তিনি ছিলেন দৃঢ়চেতা রাজনীতিক, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। অথচ সীমান্তের ওপারে, পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি শহরের নয়া বস্তি এলাকার মানুষের স্মৃতিতে তিনি আজও রয়ে গেছেন স্রেফ ‘বিউটি’ নামের এক কিশোরী হিসেবে। তার প্রয়াণের খবরে শোকের আবহ নেমে এসেছে সেই পুরনো পাড়ার অলিগলিতে, যেখানে কেটেছিল তার শৈশবের দিনগুলো।

শৈশবের জলপাইগুড়ি

দেশভাগের আগে অবিভক্ত বাংলার জলপাইগুড়ির নয়া বস্তি এলাকাতেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদার। স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে আজও ভেসে ওঠে এক কিশোরীর অবয়ব— দুধে-আলতা গায়ের রং, চোখভরা কৌতূহল আর সহজ সরল হাসি।

অসাধারণ রূপের জন্যই পরিবার ও প্রতিবেশীরা আদর করে তাকে ডাকতেন ‘বিউটি’। শৈশবের বন্ধুদের কাছেও এই নামেই তিনি পরিচিত ছিলেন। ‘খালেদা খানম পুতুল’ নামটি ইতিহাসে জায়গা করে নিলেও, জলপাইগুড়ির স্মৃতিতে আজও বেশি জীবন্ত সেই ডাকনাম— ‘বিউটি’।

ধুলোমাখা স্কুলজীবন ও মেধার পরিচয়

নয়া বস্তির কাছাকাছি একটি স্থানীয় স্কুলেই তার পড়াশোনার শুরু বলে জানান এলাকাবাসী। দেশভাগের উথালপাথালে বহু নথি হারিয়ে গেলেও, পুরনো বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করেন— বিউটি ছিলেন শান্ত প্রকৃতির ও মনোযোগী ছাত্রী।

এলাকার ধুলোমাখা রাস্তায় তার ছোটাছুটি আজও যেন ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।এক প্রতিবেশীর কথায়,

‘যে মেয়েটিকে একসময় আমাদের সঙ্গে এই গলিতেই খেলতে দেখেছি, তিনিই পরে একটি দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন— ভাবলেই আজও গায়ে কাঁটা দেয়।’

দেশভাগ ও বিচ্ছেদের অধ্যায়

১৯৪৭ সালের দেশভাগ মজুমদার পরিবারের জীবনেও এনে দেয় বড় পরিবর্তন। কাঁটাতারের বিভাজনে ভারত ও পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হলে জলপাইগুড়ির মায়া ত্যাগ করে পরিবারটি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

ভিটেমাটি ছাড়লেও নয়া বস্তির সঙ্গে তাদের আবেগের বন্ধন কখনোই পুরোপুরি ছিন্ন হয়নি।

স্মৃতির শহরে ফিরে দেখা

খালেদা জিয়ার প্রয়াণের খবরে আজ জলপাইগুড়ির মানুষের কাছে এটি নিছক রাজনৈতিক সংবাদ নয়— বরং শৈশবের এক আপন মুখ হারানোর বেদনা। সময়ের সঙ্গে নয়া বস্তির চেহারা বদলেছে, পুরনো ঘরবাড়ির জায়গায় উঠেছে নতুন দালান। তবু ইতিহাসের পাতায় উঁকি দিলে আজও শোনা যায় সেই পরিচিত ডাক— ‘বিউটি’। স্মৃতির টানেই নয়া বস্তি আজও খুঁজে ফেরে তাদের হারিয়ে যাওয়া ছোট্ট মেয়েটিকে।

এনএনবাংলা/পিএইচ