সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

মিনিয়াপোলিসে সরকারি এজেন্টের গুলিতে আবারও মার্কিন নাগরিক নিহত

গুলি হয়েছে যেখানে, সেখানে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন একজন। ছবি: রয়টার্স

 

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন বিভাগের (আইসিই) এক ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে আবারও একজন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে একই শহরে সরকারি এজেন্টের গুলিতে এটি দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা। এ ঘটনার জেরে শহরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের একজন সেনেটর জানিয়েছেন, নিহত ব্যক্তির নাম অ্যালেক্স প্রেট্টি। বয়স ৩৭ বছর। তিনি একজন মার্কিন নাগরিক এবং পেশায় একজন নার্স। খবর বিবিসি বাংলা।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম দাবি করেছেন, এ ঘটনায় ফেডারেল এজেন্ট আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুড়েছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই দাবিকে সরাসরি ‘ননসেন্স ও মিথ্যে’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, মিনিয়াপোলিসের মেয়র ও মিনেসোটার গভর্নর ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি তৈরি করছেন।

চলতি মাসের শুরুতেই মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন ও কাস্টমস বিভাগের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক সদস্যের গুলিতে রেনি নিকোল গুড নামের এক নারী নিহত হন। তিনিও মার্কিন নাগরিক ছিলেন।

সেই সময় ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছিলেন, রেনি গুড আইসিই এজেন্টদের গাড়িচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থে একজন এজেন্ট গুলি ছুড়েছিলেন।

স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ফেডারেল অফিসারের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার বিষয়টি বিবিসিকে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিস।

মিনিয়াপোলিস শহরজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে।

সংস্থাটির মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন জানান, অভিযানের সময় বর্ডার পেট্রোল কর্মকর্তাদের দিকে একজন ব্যক্তি ৯ মিলিমিটার সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ডগান নিয়ে এগিয়ে যান।

ম্যাকলাফলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, অফিসাররা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নিরস্ত্র করতে গেলে তিনি সহিংস হয়ে ওঠেন। নিজের ও সহকর্মীদের জীবন হুমকির মুখে মনে করে একজন এজেন্ট গুলি ছোড়েন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিলেও পরে ওই ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সন্দেহভাজনের কাছে দুটি ম্যাগাজিন ছিল বলেও জানান তিনি।

ফেডারেল এজেন্টের হাতে একজনের মৃত্যুর পর মিনিয়াপোলিসে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা আইসিই কর্মকর্তাদের শহর ছাড়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

দুই সপ্তাহ আগে একই শহরে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে এক নারীর মৃত্যুর পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে ধারাবাহিক বিক্ষোভ চলছিল। সে সময় মেয়র জ্যাকব ফ্রে ফেডারেল কর্মকর্তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করে এজেন্টদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন।

মিনিয়াপোলিসের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ডেমোক্রেট দলীয় আইনপ্রণেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা আইসিই এজেন্টদের মিনেসোটা ত্যাগের দাবি তুলেছেন।

কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ সামাজিক মাধ্যম এক্সে লেখেন, “স্বৈরশাসন থেকে আমেরিকানদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের। প্রকাশ্য দিবালোকে একজন মাকে গুলি করে হত্যার দুই সপ্তাহ পর আবারও একজনকে গুলি করা হলো।”

কংগ্রেসে সংখ্যালঘু দলের নেতা হাকিম জেফরিস সংশ্লিষ্ট ফেডারেল এজেন্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্য জেসমিন ক্রোকেট বলেন, ট্রাম্পের উচিত “অযোগ্য, অপ্রশিক্ষিত ও সহিংস” এজেন্টদের মিনেসোটা থেকে সরিয়ে নেওয়া।

এনএনবাংলা/

ছবি: বিবিসি