সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা

 

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-এর ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রভাব ও চাপের প্রেক্ষাপটে ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) তাকে এ পদে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি পর্দার আড়ালে থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে সক্রিয় ছিলেন; এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নেতৃত্বে অভিষিক্ত হলেন তিনি।

১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের মাশহাদ শহরের এক ধর্মীয় পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা। তিনি ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির পুত্র। ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অংশ নেন। পরবর্তী সময়ে নব্বইয়ের দশকের শেষদিকে কোম শহরের সেমিনারিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেন।

মোজতবা খামেনি মূলত ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর একজন প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পিতার দপ্তরে কাজ করার সুবাদে সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন। তাকে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতার অন্যতম ‘পাওয়ার ব্রোকার’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

তবে তার উত্থানকে ঘিরে বিতর্কও কম ছিল না। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাহমুদ আহমাদিনেজাদ-এর বিজয়ে নেপথ্যে ভূমিকা রাখার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী আন্দোলন এবং ২০২২ সালে জিনা মাহসা আমিনী-এর মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোরভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রেও তার সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

২০২২ সালের আগস্টে কোম সেমিনারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মাধ্যমে তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় উচ্চতর পাণ্ডিত্য ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, অনেকেই এটিকে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখেছিলেন।

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান গভীর ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। এতদিন পিতার ছায়ায় থেকে আড়ালেই প্রভাব বিস্তার করলেও, এখন তাকে প্রকাশ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সামলাতে হবে।

এনএনবাংলা/পিএইচ