সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও মিলছে না তেল

 

রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদার কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে অনেক পাম্পে তেল না পেয়ে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের। বেশিরভাগ পাম্পে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ সারি ও উপচে পড়া ভিড়।

শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যায়। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। বেশ কিছু পাম্প থেকে চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তেল না পাওয়ায় অনেক জায়গায় গ্রাহক ও পাম্প কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। এ সময় গ্রাহকরা পেট্রোল পাম্পগুলোর ওপর সরকারের কঠোর নজরদারির দাবি জানান।

অন্যদিকে পাম্প মালিকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, যে পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ আসার কথা, বর্তমানে ততটা আসছে না।

রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। অনেক পাম্প ও ডিপোতে তেল নিতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। যানবাহনভিত্তিক নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। সকাল থেকেই প্রতিটি পাম্পে দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

ক্রেতাদের একাংশের আশঙ্কা, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন। সেই ভয়ে অনেকেই আগেভাগে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পেট্রল ও অকটেন সংগ্রহ করছেন। তবে কিছু স্থানে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাড়তি চাহিদার কারণে চাপ সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত কোনো সংকট তৈরি হয়নি। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য চালকদের জটলা তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কিছু পাম্পে তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক পেট্রল পাম্প মালিক গণমাধ্যমকে জানান, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, কিছু পাম্প মালিক তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যা অনৈতিক। চালকদের আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।

কিছু চালকের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তবে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে এবং গত দুদিন ধরে তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে।

শাহজাহানপুর উপজেলা থেকে কয়েকটি পাম্প ঘুরে বগুড়া ফিলিং স্টেশনে আসা এক চালক গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তেল নেওয়ার জন্য ঘুরছেন। মাঝিরা টিএমএসএস পাম্পে প্রচুর ভিড় থাকলেও বগুড়া ফিলিং স্টেশনে তুলনামূলক ভিড় কিছুটা কম। এখান থেকেও তেল না পেলে মোটরসাইকেল চালানো কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান তিনি।

মোটরসাইকেল চালক কমল বলেন, এভাবে তেল সরবরাহে বাধা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে এখানে সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা না থাকলেও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। তবে ভোক্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, গুজবের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল সংগ্রহের প্রবণতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ