আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বাজারে বেশকিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তালিকায় রয়েছে ডিম, মুরগি, ভোজ্যতেল, মসুর ডালসহ আরও কয়েকটি পণ্য। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)–এর দৈনিক পণ্যমূল্যের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ৩৬ থেকে ৪০ টাকা। আগের দিন যা ছিল ৩২ থেকে ৪০ টাকা।
তবে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফার্মের লাল ডিম গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১০৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু বাজারে এর চেয়েও বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
রোজা শুরুর আগের দিন ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছিল ২০০ থেকে ২২০ টাকা দরে। এরপর এক সপ্তাহের মধ্যে দাম কমে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় নেমে আসে। তবে পরে আবার বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকা।
একইভাবে সোনালি জাতের মুরগির দামও বেড়েছে। গতকাল এসব মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। পাশাপাশি ডিমের দামও বেড়েছে। গত সপ্তাহে ফার্মের বাদামি ডিমের ডজন ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের মধ্যে ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, জিরা, লবঙ্গ ও চিনির দামও বেড়েছে। টিসিবি সূত্র জানায়, খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ থেকে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাত দিন আগে ছিল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা। বোতলজাত ২ লিটারের সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৯০ থেকে ৩৯৫ টাকা, যা সাত দিন আগে ৩৮৫ থেকে ৩৯৫ টাকা ছিল।
এছাড়া পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ থেকে ৯৫৫ টাকায়, যা সাত দিন আগে ৯২০ থেকে ৯৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি জিরা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৪০ টাকা, যা সাত দিন আগে ছিল ৬০০ টাকা। আর লবঙ্গের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি কেজি ১৪০০ টাকা, যা আগে ছিল ১২০০ টাকা।
এদিকে উৎপাদন খরচ প্রায় সাড়ে ৯ টাকা হলেও প্রান্তিক খামারিরা লোকসান গুনে খামার পর্যায়ে প্রতি পিস ডিম সাড়ে ৬ টাকায় বিক্রি করছেন। অথচ আড়ত হয়ে সেই ডিম খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তাকে প্রায় ১১ টাকায় কিনতে হচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কারণে একদিকে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে বাড়তি দামে ডিম কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা।
তাদের আশঙ্কা, ছোট খামারগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ডিম ও মুরগির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। এতে ভোক্তাদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।
অন্যদিকে মাছ ও গরুর মাংসের বাজারেও আগেই চড়া দামের চাপ রয়েছে। বাজারে মাঝারি আকারের অনেক মাছই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, আর জনপ্রিয় মাছগুলোর দাম আরও বেশি। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত অনেক পরিবারের পক্ষে নিয়মিত মাছ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গরুর মাংসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন দামে অনেক পরিবার মাসে একবারও গরুর মাংস কিনতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
ভোক্তারা বলছেন, নিত্যপণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চাল-ডাল, সবজি, তেল থেকে শুরু করে প্রায় সব খাবারের দামই বেড়েছে। এর মধ্যে মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার অনেকের জন্যই বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।
বাজারে ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্রেতাই আগের মতো এক কেজি মুরগি না কিনে অল্প পরিমাণে কিনছেন। কেউ কেউ আবার ডজনের বদলে অর্ধডজন ডিম কিনছেন। এতে বোঝা যায়, মূল্যবৃদ্ধির চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও প্রভাব ফেলছে।
এনএনবাংলা/


আরও পড়ুন
২০০৯ সালের পর জন্মগ্রহণকারীদের ধূমপান নিষিদ্ধ, আইন করছে যুক্তরাজ্য
তিন বছরে ৪০০ পোশাক কারখানা বন্ধ, আরও বহু ঝুঁকিতে: বিজিএমইএ
মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ