সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

এবার যুদ্ধে যোগ দিয়ে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো হুথি বিদ্রোহীরা

ছবি: টাইমস অফ ইসরায়েল

 

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে যোগ দিয়ে দক্ষিণ ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইয়েমেন থেকে সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলো।

রয়টার্স ও এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় কাজ শুরু করে। হামলার সতর্ক সংকেত পাওয়ার পর আইডিএফ দেশজুড়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে প্রায় ১৫ মিনিট পর পরিস্থিতি নিরাপদ ঘোষণা করে সবাইকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

এই হামলার ঠিক আগে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর হুথি উপদলের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তারা সরাসরি এই যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করবে।

হুথি গোষ্ঠী কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ করে সরাসরি সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অন্য কোনো দেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেয়, ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে লোহিত সাগর ব্যবহার করা হয় অথবা ইরানের ওপর হামলার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়। ইয়াহিয়া সারি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাদের ‘আঙুল এখন ট্রিগারে’ রয়েছে এবং ইরান, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরাক ও লেবাননের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাবে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

হুথিরা মূলত ইয়েমেনের শিয়া মুসলিম সংখ্যালঘু ‘জাইদি’ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সশস্ত্র রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠী। তারা নিজেদের ইরান-নেতৃত্বাধীন ‘অক্ষশক্তি’ বা ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে দাবি করে, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী।

নব্বইয়ের দশকে আত্মপ্রকাশ করা এই গোষ্ঠীটি ‘আনসার আল্লাহ’ নামেও পরিচিত। এর নামকরণ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন আল-হুথির নামানুসারে। বর্তমানে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার ভাই আব্দুল মালিক আল-হুথি। ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। এতদিন সংঘাতটি মূলত ইসরায়েল, ইরান ও লেবানন সীমান্তকেন্দ্রিক থাকলেও হুথিদের সরাসরি অংশগ্রহণ লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইয়েমেনের এই পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দেয়, তাহলে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, হুথিদের এই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

এনএনবাংলা/পিএইচ