সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

ব্রিটিশদের পতন ঘণ্টা বাজায় সুয়েজ, হরমুজ কি আমেরিকার জন্য একই পরিণতি বয়ে আনবে?

 

ইতিহাস কি আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করছে?

১৯৫৬ সালের সুয়েজ সংকট ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা করেছিল। এবার কি মধ্যপ্রাচ্যের ‘হরমুজ প্রণালি’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একইভাবে সংকটে ফেলতে পারে? মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ থেকে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত।

সুয়েজ ১৯৫৬: ব্রিটিশ আধিপত্যের পতন

১৯৫৬ সালে মিশরের প্রেসিডেন্ট জামাল আবদেল নাসের সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করলে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইসরাইল সামরিক পদক্ষেপ নেয়। যুদ্ধে তারা বিজয়ী হলেও রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ব্রিটেনকে পিছু হটতে হয়। এই ঘটনাই ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যহ্রাস ঘটায় এবং বিশ্ব রাজনীতিতে লন্ডনের একক আধিপত্যের অবসান নিশ্চিত করে। এরপরই মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমান প্রেক্ষাপট: হরমুজ প্রণালির সংকট

আজ, প্রায় ৭০ বছর পর, বিশ্লেষকরা দেখছেন, আমেরিকা একটি অনুরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি। ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব ওয়াশিংটনকে চাপের মুখে ফেলেছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। ইরান যদি এই পথ অবরোধ করে বা বিঘ্ন ঘটায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব পড়বে, তা সামলানো বর্তমান আমেরিকার পক্ষে চ্যালেঞ্জিং।

যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল দিকগুলো

বিশাল ঋণ: ১৯৫৬ সালে ব্রিটেনের ঋণের বোঝা যতটা ভয়ানক ছিল, আজ আমেরিকার ঋণ তার চেয়েও বেশি — প্রায় ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব।

সামরিক অতিবিস্তার: ইউক্রেন থেকে দক্ষিণ চীন সাগর—সবখানেই মার্কিন সেনা মোতায়েন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ সামরিক নিয়োগ করা কঠিন হয়ে গেছে।

আঞ্চলিক শক্তির উত্থান: ইরান এখন ১৯৫৬ সালের মিশরের তুলনায় অনেক শক্তিশালী। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক মিত্ররা (প্রক্সি নেটওয়ার্ক) সরাসরি মার্কিন বিজয় নিশ্চিত করা কঠিন করে দিয়েছে।

ইসরাইল ও ফিলিস্তিন ইস্যু

মিডল ইস্ট আইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইসরাইলের সামরিক আধিপত্য মূলত মার্কিন সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালির কারণে যদি মার্কিন প্রভাব হ্রাস পায়, তবে ইসরাইলও নিরাপত্তাজনিত সংকটে পড়তে পারে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পিছু হটার প্রভাব ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সমীকরণকেও পরিবর্তন করতে পারে।

ইতিহাসের শিক্ষা

সাম্রাজ্য একদিনে ধ্বংস হয় না। যখন কোনো শক্তির সামরিক ব্যয় তার রাজনৈতিক কৌশলের তুলনায় বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়, তখনই পতনের সূচনা হয়। যেমন সুয়েজ খাল ব্রিটিশদের দম্ভ চূর্ণ করেছিল, হরমুজ প্রণালি হয়তো মার্কিন একক আধিপত্যের অবসানের পথে প্রভাব ফেলতে পারে। এই অঞ্চল এখন নতুন শক্তির উত্থান নয়, বরং বহুমুখী শক্তির (Multipolar world) দিকে ধাবিত হচ্ছে।

এনএনবাংলা/পিএইচ