সাম্প্রতিক
তিতাসের ‘সিস্টেম লস’ বছরে ১০ কার্গো এলএনজির সমপরিমাণ গ্যাস হাম ও উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, প্রাণহানি ছাড়াল ১ হাজার জুলাই জাদুঘরে অশ্রুসজল রাষ্ট্রপতি, বললেন ‘মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি’ সালমান শাহর মৃত্যু: ডনের বিরুদ্ধে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ গোপনের অভিযোগ ইতালীয় গণমাধ্যমে বাঁধনের ওপর হামলার খবর, তদন্তে বিশেষ পুলিশ ‘দিগোস’ মেট্রোরেলের ২৭ বিয়ারিং প্যাড ‘ক্রিটিক্যাল’, ৪৬ পিলারে ফাটল: সংসদে মন্ত্রী আশির দশকে ফিরছে সোশ্যাল মিডিয়া, এআই ছবির ট্রেন্ডে নেটিজেনরা বিএনপি ক্ষমতায় আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না— সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা ডিসেম্বরে হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
Skip to content

বাংলাদেশিসহ ৫ লাখ নথিবিহীন অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন

 

স্পেনে অননুমোদিতভাবে বসবাস ও কাজ করা বাংলাদেশিসহ প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে দেশটির প্রগতিশীল জোট সরকার। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিক্রি অনুমোদন করা হয়।

যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন নীতি ক্রমশ কঠোর হচ্ছে, সেখানে স্পেন ঠিক উল্টো পথে হাঁটায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

স্পেনের অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও অভিবাসনবিষয়ক মন্ত্রী এলমা সাইজ এই সিদ্ধান্তকে বর্তমান সরকারের জন্য একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই আইনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—তিন ধরনের বৈধতা রয়েছে।

মন্ত্রী সাইজ বলেন, “এসব মানুষ আমাদের সমাজের অংশ। তাদের সন্তানরা আমাদের সন্তানদের সঙ্গে স্কুলে যায়, তারা আমাদের শহরকে সচল রাখে। এখন তারা পূর্ণ অধিকার ও নিরাপত্তা পাবে।”

এই কর্মসূচির আওতায় অভিবাসীরা শর্ত পূরণ করলে আবাসন ও কাজের অনুমতিপত্র, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কার্ড পাবেন।

প্রাথমিকভাবে এই অনুমোদন এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। পরবর্তীতে তারা ধাপে ধাপে অভিবাসন ব্যবস্থার অন্যান্য শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

এদিকে, বর্তমানে চীন সফরে থাকা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, শত শত সংস্থা এবং ৬ লাখেরও বেশি মানুষের প্রচেষ্টার ফলেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, নাগরিক উদ্যোগে কোনো বিল পার্লামেন্টে তুলতে স্পেনে অন্তত ৫ লাখ স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজে।

এই কর্মসূচির আওতায় আবেদন করতে হলে—

  • আবেদনকারীকে প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে
  • ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে
  • অন্তত টানা ৫ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে
  • পরিবারের সদস্য (প্রথম পর্যায়ের আত্মীয়/জীবনসঙ্গী) থাকলে তাদের আবেদনও একসঙ্গে বিবেচিত হবে
  • আবেদনের শেষ সময় ৩১ জুন

অপরাধমূলক রেকর্ড যাচাই

ডিক্রির চূড়ান্ত খসড়ায় আবেদনকারীদের অপরাধমূলক রেকর্ড কঠোরভাবে যাচাইয়ের বিধান রাখা হয়েছে। নিজ দেশে অপরাধে জড়িত না থাকার সনদ এক মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে। ব্যর্থ হলে সরকার কূটনৈতিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

এই সিদ্ধান্তকে ইতোমধ্যে চ্যালেঞ্জ করার ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দল পপুলার পার্টি (পিপি)। দলটির নেতারা বলছেন, এতে ভবিষ্যতে অবৈধ অভিবাসন বাড়তে পারে এবং জনসেবায় চাপ সৃষ্টি হবে।

অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থী দল ভক্সও এর তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এই উদ্যোগ নতুন অভিবাসীদের আকৃষ্ট করবে এবং অপরাধী চক্রকে সুযোগ করে দেবে।

তবে মন্ত্রী এলমা সাইজ বলেন, “বিশ্বজুড়ে অভিবাসনবিরোধী প্রবণতার বিরুদ্ধে স্পেন একটি আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।”

এনএনবাংলা/