জাতিসংঘে হরমুজ ইস্যুতে মার্কিন প্রস্তাবে চীনের আপত্তি, ভেটোর ইঙ্গিত
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথভাবে উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করেছে চীন। বেইজিং প্রস্তাবটির বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনের সময়কে ‘অনুপযুক্ত’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো উদ্যোগ সংকট নিরসনের বদলে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ফু চং বলেন, হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে কোনো প্রস্তাব পাস হলে তা আঞ্চলিক অস্থিরতা আরও গভীর করতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া মার্কিন-বাহরাইন প্রস্তাবে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক হামলা ও মাইন স্থাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ এটি ভোটে উঠলে চীন ও রাশিয়ার ভেটোর মুখে পড়তে পারে।
এর আগেও গত মাসে প্রায় একই ধরনের একটি মার্কিন-সমর্থিত প্রস্তাব চীন ও রাশিয়ার ভেটোর কারণে পাস হয়নি। সে সময় দুই দেশ অভিযোগ করেছিল, প্রস্তাবটির ভাষা ছিল সম্পূর্ণ একপেশে এবং এর মাধ্যমে কেবল ইরানের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
জাতিসংঘভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘পাসব্লু’কে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে ফু চং বলেন, “আমরা মনে করি না যে এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সঠিক। এমনকি এটি উত্থাপনের সময়ও মোটেও উপযুক্ত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “এমন জটিল পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে কোনো প্রস্তাব পাস করা হলে তা সংকট আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত হবে সব পক্ষকে আন্তরিক কূটনৈতিক সংলাপে উৎসাহিত করা।”
চীনের এই অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পরাশক্তিগুলোর মধ্যকার বিভক্তিও আবার সামনে এসেছে।
সূত্র : রয়টার্স
এনএনবাংলা/পিএইচ
