সাম্প্রতিক
ইসলামী ন্যাটোর সামরিক শক্তি কতটা, পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদির হাতে কী কী অস্ত্র বিয়ের গুঞ্জনে ক্ষুব্ধ পূজা চেরি, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’, মিয়ানমারের বক্তব্যে বাংলাদেশের উদ্বেগ এআই ক্যামেরা চালুর পরই অ্যাকশন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩ ঘণ্টায় ৩৭৯ মামলা শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে স্বতন্ত্র পে-স্কেল ভাবছে সরকার রাজধানীতে চালুর প্রথম দিনেই দুর্ঘটনায় ‘পিংক বাস’ ৩ মিনিটের যে ব্যায়াম ৯০ মিনিটের ওয়ার্কআউটের চেয়ে বেশি উপকারী অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমাবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী বাজারে আসছে তুরস্কের তৈরি প্রথম স্মার্টফোন, থাকছে স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা
Skip to content

ধর্ষণচেষ্টার বিচার দাবি

জাবির প্রক্টরকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা, কার্যালয়ে তালা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন একদিকে যেমন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছে, অন্যদিকে ঘটনার তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

শনিবার (১৬ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা প্রক্টর কার্যালয়ের দুটি দরজার তালা ভেঙে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন। একই সঙ্গে আগামীকাল রোববার থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফজিলাতুন্নেছা হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফারজানা তাবাসসুম। তিনি জানান, ১২ মে সংঘটিত ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার পরদিন ১৩ মে নারী শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা না হলে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ ছিল আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি। কিন্তু সময়সীমা শেষ হলেও অভিযুক্তকে আটক করা হয়নি। বরং প্রশাসন বারবার শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ফারজানা তাবাসসুম আরও বলেন, ১৩ মে উপাচার্যের সামনে উত্থাপিত দাবিগুলো তিনি স্বাক্ষরের মাধ্যমে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান থেকে সরে আসে। শিক্ষার্থীদের ভাষায়, এটি ছিল ‘প্রশাসনিক অসততা’ এবং তাদের সঙ্গে ‘বেইমানি’।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একজন উপাচার্যের প্রধান দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সত্য প্রকাশ করা এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। কিন্তু প্রশাসন সেই দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সারা রাত অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপরও তারা আন্দোলন চালিয়ে যান। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বরং টালবাহানা, দায়িত্ব এড়ানো এবং অসংবেদনশীল আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোর পর্যন্ত প্রক্টর তাদের সামনে আসেননি। পরে উপাচার্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ‘ষড়যন্ত্রকারী’ বলে মন্তব্য করেন। শিক্ষার্থীদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আন্দোলনকে হেয় করার অপচেষ্টা।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করা হবে।

এর আগে শুক্রবার রাত দুইটার দিকে নারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামের মধ্যে অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগ দাবিতে তারা এ আন্দোলন শুরু করেন। সারা রাত অবস্থান শেষে শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা হলে ফিরে যান।

এনএনবাংলা/পিএইচ