Skip to content

এআই ট্রাফিক মামলার নামে ভুয়া মেসেজ, যেভাবে চিনবেন

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় এআই ট্রাফিক নজরদারির সুযোগ নিয়ে নতুন প্রতারণা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)–এর নামে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে গাড়ির মালিকদের কাছে মামলা ও জরিমানার মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। এসব মেসেজে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে প্রতারক চক্র।

সম্প্রতি রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একাধিক গাড়ির মালিকের ফোনে এমন ভুয়া মেসেজ এসেছে। মেসেজে দাবি করা হয়, ট্রাফিক ক্যামেরায় গাড়ির গতিসীমা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা না দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাভারের ব্যাংক কলোনির বাসিন্দা মাসুদ রানা জানান, তার গাড়ি ঢাকায় থাকা সত্ত্বেও সাভারে ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে মেসেজ আসে। পরে বিআরটিএ’তে যোগাযোগ করে তিনি জানতে পারেন, সেটি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন খান আনু। তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে গাড়ি ব্যবহার না করলেও তার ফোনে মামলা ও জরিমানার মেসেজ পাঠানো হয়।

তদন্তে দেখা গেছে, প্রতারকরা বিআরটিএ’র লোগো ব্যবহার করে নকল ওয়েবসাইট বানিয়েছে। তবে সরকারি ওয়েবসাইটের মতো .gov.bd ডোমেইন না থেকে সেখানে .online বা .icu ধরনের ডোমেইন ব্যবহার করা হয়েছে। এসব লিংকে প্রবেশ করলে ব্যাংক তথ্য, কার্ড নম্বর ও OTP চুরির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সাকের উজ্জামান বলেন, ভুয়া মেসেজগুলো সাধারণত বিদেশি নম্বর, বিশেষ করে +63 কোড থেকে পাঠানো হচ্ছে, যা ফিলিপাইনের আন্তর্জাতিক ডায়াল কোড। তিনি জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান কখনো বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে না এবং সরকারি ওয়েবসাইট সবসময় gov.bd ডোমেইনে পরিচালিত হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, বিআরটিএ সবসময় নিজস্ব সরকারি নম্বর থেকেই মেসেজ পাঠায়। এছাড়া এখনো সাভার বা ঢাকা জেলায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক মামলা কার্যক্রম চালু হয়নি। তাই এ ধরনের মেসেজ প্রতারণার অংশ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্দেহজনক কোনো লিংকে প্রবেশ না করে সরাসরি বিআরটিএ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। একইসঙ্গে OTP, ব্যাংক তথ্য বা কার্ড নম্বর কোনো অবস্থাতেই শেয়ার করা যাবে না।

এনএনবাংলা/