



বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের গল্পই ঘুরপাক খাচ্ছে দীর্ঘ অপেক্ষা, ফিরে আসা আর নতুন স্বপ্নকে ঘিরে। ৫২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে হাইতি। অন্যদিকে ২৮ বছরের বিরতির অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের আসরে ফিরেছে স্কটল্যান্ড। তাই বস্টনের স্টেডিয়ামে রবিবারের এই ম্যাচ কেবল তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লেখার এক বড় সুযোগও বটে।
গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুটি ভিন্ন বাস্তবতার দল। একদিকে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণে নামছে হাইতি, অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্য নিয়ে মাঠে নামবে স্কটল্যান্ড।
ইতিহাসের দরজায় হাইতি
হাইতির ফুটবল সমর্থকদের জন্য এটি এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তন। ১৯৭৪ সালের পর প্রথমবারের মতো তারা বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। অর্ধশতকেরও বেশি সময় পর আবারও বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পেয়েছে ক্যারিবীয় এই দেশটি।
ম্যাচের আগে হাইতি শিবিরে স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। কোনো ধরনের চোট বা নিষেধাজ্ঞাজনিত সমস্যা নেই। কোচ সেবাস্তিয়ান মিঞের হাতে রয়েছে পুরো ২৬ জনের ফিট স্কোয়াড, যা কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাড়তি সুবিধা দেবে।
ধারণা করা হচ্ছে, স্কটল্যান্ডের শক্তিশালী মধ্যমাঠকে মোকাবিলা করতে হাইতি ৪-৪-২ ফরমেশনে মাঠে নামবে। আক্রমণভাগে থাকবেন দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা ডাকেন্স নাজোঁ। তার সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন সান্ডারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড উইলসন ইসিদর। তবে ফ্রাঁৎজদি পিয়েরোও প্রথম একাদশে জায়গার জন্য শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মধ্যমাঠে সৃজনশীলতার মূল ভরসা জ্যঁ-রিকনার বেলগার্দে, যিনি পুরোপুরি ফিট অবস্থায় দলের আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
স্বস্তির খবর স্কটল্যান্ড শিবিরে
স্কটল্যান্ড শিবিরে ম্যাচের আগে এসেছে স্বস্তির বার্তা। দলের গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনে পেটের অসুস্থতার কারণে সপ্তাহের শুরুতে অনুশীলন মিস করলেও এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। কোচ স্টিভ ক্লার্ক নিশ্চিত করেছেন, প্রথম ম্যাচে তার খেলা নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।
তবে দুঃসংবাদও আছে স্কটিশ শিবিরে। মিডফিল্ডার বিলি গিলমোর হাঁটুর গুরুতর চোটে পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেছেন। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে তিনি এই চোট পান। তার পরিবর্তে দলে যোগ হয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের তরুণ মিডফিল্ডার টাইলার ফ্লেচার।
এছাড়া রক্ষণভাগের স্কট ম্যাককেনা ও নাথান প্যাটারসন সামান্য চোটে থাকলেও ম্যাচের জন্য বিবেচনায় আছেন। আক্রমণভাগে স্কটল্যান্ডের বড় ভরসা চে অ্যাডামস, যার সঙ্গে প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ডকে।
সাম্প্রতিক ছন্দে এগিয়ে স্কটল্যান্ড
বিশ্বকাপের আগে পারফরম্যান্সের দিক থেকে স্কটল্যান্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, যেখানে হাইতির প্রস্তুতি ছিল মিশ্র ধরনের।
সম্ভাব্য একাদশ
হাইতি:
প্লাসিদ; আরকুস, আদে, দেলক্রোয়া, এক্সপেরিয়েন্স; ডিডসন, জ্যঁ জ্যাক, বেলগার্দে, প্রভিডেন্স; ইসিদর, নাজোঁ।
স্কটল্যান্ড:
গান; হিকি, হ্যানলি, সাউতার, রবার্টসন; ডোক, ম্যাকটমিনে, ফার্গুসন, ম্যাকগিন; অ্যাডামস, শ্যাঙ্কল্যান্ড।
পরিসংখ্যানের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে ফেভারিট স্কটল্যান্ড। অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী স্কোয়াড এবং সাম্প্রতিক ফর্ম তাদের কিছুটা এগিয়ে রাখছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে হাইতির মতো ক্ষুধার্ত দল যে কোনো সময় চমক দেখাতে পারে। ৫২ বছরের অপেক্ষা শেষে হাইতি কি নতুন ইতিহাস লিখবে, নাকি ২৮ বছর পর ফিরে আসা স্কটল্যান্ড নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবে—তার উত্তর মিলবে বস্টনের মাঠেই।
এনএনবাংলা/পিএইচ
Tags: ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপস্কটল্যান্ডহাইতি
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন