Skip to content

Upcoming
Germany
0-0
Curaçao
Source: ESPN

চুক্তি নিয়ে ইরানের রাজনীতিতে বিভাজন, আরাঘচির পদত্যাগ দাবি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। চুক্তির খসড়া নিয়ে তেহরান এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভও হয়েছে।

রোববার (১৪ জুন) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের রাজনৈতিক, আইনি ও কারিগরি বিভিন্ন দিক এখনো বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, চুক্তি নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের নেতারা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে রোববারই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে। তবে শুরু থেকেই এই সময়সীমা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে আসছে তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি রোববার স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে তিনি নিজের ৮০তম জন্মদিনও উদযাপন করবেন।

ফার্সের তথ্যের ভিত্তিতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন ইরানের কট্টরপন্থি নেতাদের একটি অংশ। তাদের অভিযোগ, চুক্তিটি ইরানের জাতীয় স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষা করছে না। বিশেষ করে, এটি কার্যকর হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব এবং দর-কষাকষির সক্ষমতা কমে যেতে পারে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার খবর প্রথম সামনে আসে গত শুক্রবার। সেদিন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, আলোচ্য চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আর আগের মতো থাকবে না।” তার মতে, এই জলপথ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আরাঘচির ওই মন্তব্য প্রচারের পর শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরিহিত কয়েকজন নারী ‘আরাঘচির পতন হোক’ স্লোগান দিচ্ছেন। তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলেও আখ্যা দেন।

কট্টরপন্থিদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা নিশ্চিত করতে ইরানি আলোচকরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ছাড় দিয়েছেন।

এদিকে আরেকটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের পদত্যাগ দাবি করতেও দেখা গেছে। গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া দলের অন্যতম সদস্য। তবে ভিডিওটির সত্যতা এএফপি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই সমঝোতা চুক্তি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে দেশটির ক্ষমতাকেন্দ্রিক বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান ও মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা ও এএফপি

এনএনবাংলা/