



কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিধান দত্তের বিরুদ্ধে জমি দখল ও হুমকি-ধামকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাশেদ খান নামের এক ভুক্তভোগী। ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়া পৌর শহরের এক অভিজাত রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাজীপুর ইউনিয়নের চক রনচাপ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে রাশেদ খান বলেন, আমাদের গ্রামের মাঝখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বটগাছ ও পূজার স্থান রয়েছে। ওই স্থানে যাতায়াতের জন্য অতীতে কোনো সময় কোন রাস্তা ছিল না। স্থানীয় লোকজন ক্ষেতের জমি ব্যবহার করে পূজা আর্চনা করতেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান দত্ত ওই পূজার স্থানে যাতায়াতের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের জায়গার ওপর দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। রাস্তা নির্মাণের স্বার্থে বিধান দও আমার পরিবারের মৌরসী সম্পত্তি থেকে দুই হাত জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। বিনিময়ে তিনি দুই শতক জমি দলিল করে দিবেন বলে মোখিক প্রতিশ্রুতি দেন ও বিষয়টি গোপন রাখার জন্য বলেন। এমনকি বিষয়টি যদি জানাজানি হয় তাহলে প্রত্যেক জায়গার মালিককে দুই শতক করে জমি দেওয়া লাগবে বলে তিনি জানান। তাই বিষয়টি আমরা গোপন রেখে ছিলাম। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বিবেচনা করে সরল বিশ্বাসে আমাদের জমি থেকে দুই হাত জমি রাস্তার জন্য নেওয়া হয়। বিগত প্রায় ৩ বছর ধরে ইউপি সদস্য বিধান দত্ত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই দুই শতক জমি বুঝিয়ে দেননি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সমাধান না করায় সম্প্রতি আমি রাস্তার জন্য দেওয়া নিজস্ব জমির অংশটুকু চাষ করার উপযোগী করি। এছাড়া উক্ত রাস্তার পাশে ৫৬ এসএ রেকর্ডীয় জমি খাল খননের ন্যায় একটি রাস্তা পরে আছে কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই রাস্তা মেরামতের জন্য কোনো উদ্যোগ গ্রহন না করে মেম্বার শুধু আমাদের আশ^াসের মধ্যে রেখেছিলেন। রাস্তার বিষয় নিয়ে বিধান দত্ত তার নিজস্ব লোক দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেয়াচ্ছেন। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। যার কারণে আমি মানসিকভাবে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় গত ১৬ জুন নিরাপত্তা চেয়ে ইউপি সদস্য বিধান দত্তসহ তার সহযোগী ১০ জনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাশেদের ফুফা আব্দুল বশির, সৈয়দ মঈন উদ্দিন, ফুফাতো ভাই আব্দুল্লাহ মাছুম প্রমুখ। হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বিধান দত্ত বলেন, আমার এই এলাকায় সনাতন ধর্মের লোকদের বসবাস বেশি। ওই এলাকায় কালাচাঁদ নামে প্রাচীনতম একটি দেবালয় রয়েছে। সেখানে নিয়মিত অনেক ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি হয়। সেই দেবালয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় অনেক পরিবার রাস্তার জন্য জমি দিয়েছে তন্মধ্যে রাশেদের পরিবার অন্যতম। সনাতন ধর্মসহ স্থানীয় এলাকার লোকদের স্বার্থে আমি রাস্তাটি তৈরি করে দিয়েছি। সম্প্রতি রাস্তাটি কেটে ফেলার কারণে গত কয়েকদিন থেকে সনাতন ধর্মের লোকজন তলিতে গিয়ে কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে পারছেননা। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হলেও রাশেদ গং সমাধানে রাজি হননি। এখন আওয়ামীলীগের দোসর বলে আমাকে অ্যাখায়িত করা হচ্ছে, খারাপ কর্মকান্ড করলে কি আমি এলাকায় থাকতে পারতাম। রাস্তার বিষয় নিয়ে রাশেদকে হুমকি দেয়ার কোন প্রশ্নই আসেনা।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন দুপুরে হাজীপুর ইউনিয়নের চক রনচাপ এলাকায় সার্বজনিন কালাচাঁদের (দেবালয়) তলি যাওয়ার রাস্তা রাশেদ গং কর্তৃক কাটার প্রতিবাদে স্থানীয় সনাতন ধর্মের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করে প্রশাসনের কাছে রাস্তা উদ্ধার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন