Skip to content

Upcoming
Bosnia-Herzegovina
0-0
Qatar
Source: ESPN

‘সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত’: নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ফোনালাপে ‘সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দুই সাংবাদিকের লেখা নতুন বই ‘রেজিম চেঞ্জ’-এ এমন দাবি করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত বইটিতে বলা হয়, ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক মধ্যপ্রাচ্য উপদেষ্টা, মার্কিন শান্তি দূত জ্যারেড কুশনার ও মার্কিন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। সে সময় তারা গাজা যুদ্ধ অবসানে প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

বইটির তথ্য অনুযায়ী, কাতারের রাজধানী দোহাতে হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর কুশনার ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ওই হামলায় কাতারের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বইয়ে দাবি করা হয়েছে, ক্ষুব্ধ কুশনার এক সহযোগীকে বলেছিলেন, “আমি এর মধ্যে আর নেই। ইসরায়েলিরা পাগল হয়ে গেছে।” তবে পরে তিনি পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে গাজা যুদ্ধ বন্ধের একটি কূটনৈতিক পরিকল্পনা তৈরির উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে সেই শান্তি পরিকল্পনা ট্রাম্প নেতানিয়াহুর কাছে উপস্থাপন করেন।

ফোনালাপের একপর্যায়ে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, “বিবি, সবাই তোমার ওপর বিরক্ত। সব ইহুদি তোমার ওপর বিরক্ত। এমনকি এই ফোনালাপে থাকা দুই ইহুদিও তোমার ওপর বিরক্ত।” বইটির ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তখন কুশনার ও উইটকফের দিকেই ইঙ্গিত করেছিলেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, “তুমি এখন আর পিছু হটতে পারো না। ইসরায়েল যত বন্ধু পেয়েছে, তাদের মধ্যে আমিই সেরা। সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, কিন্তু আমি তোমার পাশে আছি। এই চুক্তি ইসরায়েলের জন্য একটি বড় সুযোগ।”

বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ফোনালাপের দুই দিন পর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু গাজা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরে নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও পরিকল্পনাটি অনুমোদন করে।

নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান এবং জোনাথন সোয়ানের লেখা ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইটিতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত, ইরান ইস্যু, এপস্টিন ফাইলস এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার নানা অপ্রকাশিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বইটির আরেক অংশে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার সময় ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে আবারও আলোচনা হয়। তখন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনের জন্য এটি উপযুক্ত সময়। তবে পরবর্তী এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নেতানিয়াহুর ওই মূল্যায়নকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনা ও সংবেদনশীল তথ্য বইয়ের মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

এনএনবাংলা/